পিরোজপুর অফিস ও শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
সুন্দরবন ও সংলগ্ন লোকালয়ে নকল মধু তৈরিতে বিভিন্ন দুর্বৃত্ত চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। মাঝে মাঝে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালালেও বন বিভাগের এ ক্ষেত্রে তত্পরতা নেই বলেই জানা যায়। সুন্দরবনে প্রতি বছর তিন মাসব্যাপী মধু আহরণের মৌসুম। বছরের এপ্রিল, মে ও জুন এই তিন মাস বনে মধু আহরণের সময়। এ বনে মধুর পরিমাণ কমে যাওয়ায় অসাধু মৌয়াল চক্র ও মধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় ভেজাল মধু তৈরির ব্যবসা করে আসছে। মৌয়ালদের একাংশ ভেজাল মধু তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জামসহ এ সময় মৌসুমে বনে প্রবেশ করে বলে খবর পাওয়া গেছে। সুন্দরবনের শরণখোলা, চাঁদপাই, নলিয়ান ও বুড়িগোয়ালীনি রেঞ্জের বিভিন্ন অফিস থেকে মৌয়ালরা অনুমতি নিয়ে গত তিন সপ্তাহ ধরে মধু সংগ্রহের জন্য এখন বনের ভিতরে অবস্থান করছেন।
সুুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জভুক্ত বন সংলগ্ন বগী, খুড়িয়াখালী, সোনাতলা ও শরণখোলা গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামবাসীরা জানান, বনে এখন আর আগের মতো মধু পাওয়া যায় না। শুরুতে গরান ও খলসী ফুলের মৌসুম এবং শেষের দিকে আসবে কেঁওড়া ফুল। কিন্তু বনে গরান ও খলসী এই দুই জাতের গাছের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। যার ফলে মধু আহরণও হ্রাস পাচ্ছে। এ কারণে এক শ্রেণির অসত্ মৌয়াল অধিক লাভের আশায় নকল মধু বানানোর জন্য বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে বস্তাভর্তি চিনি ও বড় বড় পাতিল নিয়ে বনে যায়। চিনি নির্ভর ভেজাল মধু তৈরির জন্য শরণখোলা, চাঁদপাই, কয়রা, শ্যামনগরসহ বন সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে উঠেছে। এ চক্রের সাথে কয়েকশ’ লোক জড়িত বলে জানা যায়।
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার হরিনগর, কদমতলা, কাশিমারি, বল্লভটুপি, ঝাপালী, জয়নগর, গাবুরা এলাকার চকবারা, পার্শেমারি, ডুমরিয়া প্রভৃতি গ্রামের মৌয়ালদের একাংশ ভেজাল মধু তৈরির সাথে জড়িত। দু’বছর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় ৪১ ড্রাম নকল মধু জব্দ করে নষ্ট করা হয়। শ্যামনগর উপজেলার পাশে ২০/৩০টি পরিবার নিজ বাড়িতেই ভেজাল মধু তৈরি করে বলে জানা যায়। খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার ৪নং কয়রা (পল্লী মঙ্গল) এলাকার মৌয়ালদের বসতি রয়েছে। এখানে গত মৌসুমে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে নকল মধু জব্দ করে নষ্ট করা হয়। কয়রা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন কয়েকটি গ্রাম নকল মধু তৈরির আস্তানা। সুন্দরবনের পূর্ব পাশে বরগুনা জেলার পাথারঘাটা উপজেলার চরদোয়ানী ও কাঁঠালতলী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে নকল মধু পাওয়া যায়।
সুন্দরবনের বিশিষ্ট মত্স্য ব্যবসায়ী ও দুবলা ফিশার মেন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, সুন্দরবনের মৌয়ালদের কারও কারও বিরুদ্ধে ভেজাল মধু তৈরির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (পূর্ব) মো. মাহমুদুল হাসান এ ব্যাপারে জানান, ভেজাল মধু তৈরির অভিযোগ তিনি শুনেছেন এবং তার প্রতিরোধে বনবিভাগের নজরদারি রয়েছে। ইতোমধ্যে শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে বিভিন্ন স্টেশন কর্মকর্তা ও স্মার্ট টিমগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।