দিদারুল আলম
প্রতিনিয়তই নারী ও শিশুরা ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। দিনকে দিন এ ঘটনা বৃদ্ধি পেয়ে চলছে। এসব ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুর জবানবন্দি গ্রহণ করত নারী ও পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেটরা। কিন্তু এখন থেকে এ ধরনের ঘটনায় করা মামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জবানবন্দি গ্রহণ করবেন শুধু নারী ম্যাজিস্ট্রেটরা। গতকাল মঙ্গলবার অধস্তন আদালতের বিচারকদের এমন নির্দেশনা দিয়ে এক সার্কুলার জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ওই সার্কুলারে বলা হয়েছে, অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে জবানবন্দি গ্রহণের দায়িত্ব দিতে চিফ জুডিশিয়াল ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হলো। তবে সংশ্লিষ্ট জেলা বা মহানগরীতে নারী ম্যাজিস্ট্রেট কর্মরত না থাকলে অন্যকোনো যোগ্য ম্যাজিস্ট্রেটকে উক্ত দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।
আইন মন্ত্রণালয় হতে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সারাদেশে কর্মরত বিচারকের সংখ্যা ১ হাজার ৮১৯ জন। এর মধ্যে নারী বিচারকের সংখ্যা ৪৭৩ জন। তাদের মধ্যে জেলা জজ ৩৪ জন, অতিরিক্ত জেলা জজ ৩৮ জন ও যুগ্ম জেলা জজ ৯১ জন নারী। এছাড়া সিনিয়র সহকারী জজ ৮৩ জন এবং ২২৭ জন নারী সহকারী জজ কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে যেসব নারী ম্যাজিস্ট্রেটরা চিফ জুডিশিয়াল ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কর্মরত আছেন তারা এখন থেকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের মামলার ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণ করবেন।
সার্কুলারে যা বলা হয়েছে
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এ বর্ণিত অপরাধ সংঘটনে ওয়াকিবহাল ব্যক্তির জবানবন্দি লিপিবদ্ধের কথা বলা হয়েছে। ঐ আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী অপরাধের তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে লিপিবদ্ধকৃত জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। এ কারণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন স্পেশাল কমিটি ফর জুডিশিয়াল রিফর্মস সুপারিশ করে বলেন, বর্তমানে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া নারী বা শিশুদের জবানবন্দি পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। একজন পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ক্ষতিগ্রস্ত নারী বা শিশু ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিতে সংকোচবোধ করে। ফলে ঘটনার প্রকৃত বিবরণ দিতে অনেক সময় তারা ইতস্তত করেন। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার ভিকটিমের জবানবন্দি একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধ করা আবশ্যক। এতে ভিকটিমরা সহজেই ও নিঃসংকোচে তাদের উপর নির্যাতনের বর্ণনা দিতে পারবে। কমিটির এই সুপারিশ অনুমোদনক্রমে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সার্কুলার জারির নির্দেশ দেন।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভানেত্রী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ ইত্তেফাককে বলেন, এটা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও ভালো উদ্যোগ। এটার খুবই দরকার ছিলো। তিনি বলেন, এই আইনে রয়েছে ভিকটিম চাইলে তার সাক্ষ্য গ্রহণের বিষয়টি ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এখন সময় এসেছে এটাকে বাধ্যতামূলক করা, যাতে ভিকটিম না চাইলেও ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে যাতে তার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।