মিসরের রাজধানী কায়রো শহরের দক্ষিণে সাক্কারা নামে এক প্রাচীন সমাধিক্ষেত্রে প্রত্নতাত্ত্বিকরা রহস্যময় এক সমাধির সন্ধান পেয়েছেন। প্রত্নতাত্ত্বিকরা সমাধির ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো বিস্মিত হয়েছেন। সমাধির ভেতরের দেয়ালে এমন কিছু শিলালিপি এবং দুর্লভ চিত্রকর্মের সন্ধান পেয়েছেন যার রঙ এখনো অমলিন। চার হাজার বছর আগের সে সব চিত্রকর্মের ঔজ্জ্বল্যে মনোমুগ্ধকর প্রাচীন সভ্যতার রূপ ফুটে উঠেছে। মিসরের প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সমাধিক্ষেত্রটির বয়স নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সমাধিটি তত্কালীন রাজবংশের একজন পদস্থ ব্যক্তি খুইয়ির। খ্রিষ্টপূর্ব ২৫শ থেকে ২৪শ সালে পঞ্চম রাজবংশের সময়ে তৈরি হয়েছিল এই সমাধি। সমাধিটির মধ্যে শিলালিপি এবং চিত্রকর্মের পাশাপাশি খুইয়ির মমি এবং শরীরের অংশ বিশেষ রাখার একটি পাত্র খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। যদিও এই পাত্রটি খণ্ডবিখণ্ড অবস্থায় ছিল।
সাক্কারার সমাধি ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে খুইয়ির সমাধিক্ষেত্রটি তুলনামূলকভাবে বড়। খননকারী দলের প্রধান মোহামেদ মুজাহিদ বলেন, সমাধিটি ‘এল’ আকৃতির, এটির মধ্যের প্রধান কক্ষটির পাশের দেয়ালজুড়ে রয়েছে মনোমুগ্ধকর এসব রঙিন চিত্রকর্ম। এছাড়া সমাধির দ্বিতীয় প্রধান কক্ষের বাইরে একটি ছোট বারান্দার মতো জায়গা রয়েছে। এখানকার কিছু ছবি রঙ চার হাজার বছরের পুরনো হলেও দেখতে একেবারে নতুনের মতো। পিরামিডে যেমন নৌকা থাকে তেমনি এই সমাধির সুড়ঙ্গের মধ্যেও পাওয়া গেছে নৌকা। সমাধির মধ্যে চোখ ধাঁধানো রঙের চিত্রকর্ম এবং সুড়ঙ্গের মধ্যের নৌকার কারণে প্রত্নতত্ত্ববিদরা খুইয়ি এবং তত্কালীন ফেরাউন ডিজেদকারে ইসেসির মধ্যে গভীর সম্পর্ক খুঁজতে শুরু করেছেন। কারণ এই সমাধির কাছেই রয়েছে ফেরাউন ডিজেদকারে ইসেসির পিরামিড। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এই দুইজনের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক ছিল। আবার কারো যুক্তি, ফেরাউন ডিজেদকারে হয়তো এই সমাধিটিকে রাজ্যের প্রশাসন কিংবা ধর্মানুষ্ঠানের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতেন। —সিএনএন