দেশের উন্নয়নে অগ্নি নিরাপত্তা জরুরি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, একটি দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি অগ্নি নিরাপত্তা জরুরি। সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে ক্ষমতা নেয়ার সময় দেশে ফায়ার সার্ভিসের সংখ্যা ছিল ১৯৩ টি। বর্তমানে এ সংখ্যা ৩৩৫টি। প্রকল্প শেষ হলে এ সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৫৪টিতে। 
 
বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ইসাব (ইলেক্ট্রনিকস  সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফায়ার সেফটি  মেলার  উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।  তিন দিনব্যাপী এ প্রর্দশনীতে ৩০টি দেশের ৬০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। 
 
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অগ্নি নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে দেশব্যাপী ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রাক প্রস্তুতির প্রস্তুতির কোন বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য পূরণে ফায়ার এক্সপো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
 
তিনি বলেন, অগ্নি নিরাপত্তাসহ দেশের সকল প্রকৃতিক  ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ-ঝুঁকি হ্রাস এবং সংঘটিত দুর্যোগে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিভেন্স অধিদফতর। তবে সামগ্রিকভাবে সারাদেশের দুর্যোগ-ঝুঁকি কমিয়ে আনা এবং সংঘটিত দুর্যোগ মোকাবেলা করা এককভাবে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে  দূরহ। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগ এ দূরহ কাজটি সহজসাধ্য করে তুলতে পারে। দেশব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ মোকাবেলায়  প্রাক প্রস্তুতি গ্রহণের  জন্য সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য সেবা সংগঠনসহ বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি জানান। 
 
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, স্থিতিশীল সরকার যত দিন থাকবে ততদিন এদেশের  অগ্রযাত্রাকে  কেউ থামাতে পারবে না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিদেশিরা এখানে এসে জিজ্ঞাসা করে, তোমরা জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করলে কী ভাবে। আমরা বলেছি, এদেশের মানুষ জঙ্গিবাদকে ঘৃনা করে। এতোটাই ঘৃনা করে যে, নিজের সন্তানের লাশটিও নিতে চান না। প্রধানমন্ত্রীর  ডাকে দেশের মানুষ সবাই সাড়া দিয়েছিল জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে।
 
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান বলেন, এ প্রদর্শনী   সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি গ্রেট প্ল্যাটফর্ম। এখানে আন্তর্জাতিক সব অত্যাধুনিক  প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি রয়েছে। আশা করি সবাই এতে উপকৃত হবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, এক সময় হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন, বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুঁড়ির দেশ। কিন্তু এখন সেই কিসিঞ্জার সাহেবকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানাই, আপনি এসে দেখে যান বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন আমরা উন্নত প্রযুক্তি  নিয়ে কাজ শুরু করেছি। এখন আমরা দিন দিন এগিয়ে যাবো। তারই একটা আয়োজন আজকের এই মেলা।  
 
ইত্তেফাক/ইউবি