গণতন্ত্রের পথে বিএনপি বড় অন্তরায় : হাছান মাহমুদ

গণতন্ত্রের পথে বিএনপি বড় অন্তরায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি।
 
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত 'বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ উন্নয়নে জননেত্রী শেখ হাসিনা' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
 
তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে সংহত করার ক্ষেত্রে বিএনপি অন্তরায় হিসেবে কাজ করেছে। তারা (বিএনপি) ২০১৪ সালে নির্বাচন বানচাল করে দেশে একটি বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। এখনো তারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে একটি বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই।
 
বিএনপি নেতাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভোট চাওয়া সম্পর্কে নেতিবাচক বক্তব্যের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর জনগণের কাছে সব সময় ভোট চাওয়ার রাজনৈতিক এবং মৌলিক অধিকার রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বিধায় তিনি জনগনের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। এটির সমালোচনা করা মানেই তারা (বিএনপি) জনগণের ভোট চায় না। তারা চায় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করতে। তারা (বিএনপি) অন্য কারো ভোট চাওয়াকে ভালো চোখে দেখে না।
 
বিএনপি নেতাদের অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আপনারাও জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চান এবং অন্যকেউ জনগণের কাছে ভোট প্রার্থনা করলে সেটি নিয়ে সমালোচনা করবেন না।
 
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রোগ নির্ণয়ের আগেই তারা (বিএনপি) বললেন তাকে বিদেশে পাটিয়ে দিতে হবে চিকিৎসার জন্য। তাহলে কি তারা (বিএনপি) বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাটিয়ে দিতে চায়?
 
বিএনপি একটি উদ্ভ্রান্ত দলে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি নেতাদের ইদানিং কালের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে বিএনপি একটি উদ্ভ্রান্ত দলে পরিণত হয়েছে এবং রিজভী আহমেদসহ বিএনপি নেতাদের বক্তব্য উদ্ভ্রান্তের প্রলাপ ছাড়া অন্য কিছুই নয়।
 
দুদক নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুদক নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে বিধায় আওয়ামী লীগ বিএনপি নির্বিশেষে সবার বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করছে। আওয়ামী লীগের এমপিরাও গ্রেফতার হয়েছে, দুদকে গিয়ে হাজিরা দিয়েছে, আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা দুদকের করা মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য হচ্ছে। সুতরাং আমি অনুরোধ জানাবো বিএনপি নেতারা কারা সরকারের কাছ থেকে ঢাকা শহরে জমি নিয়ে পাচঁতারা হোটেল করেছেন আমাদের জানা আছে। বিএনপি নেতা কারা সরকারের কাছ থেকে জমি নিয়ে অট্টালিকা বানিয়েছেন সেটিও আমাদের জানা আছে দুদক এখনো সেগুলো অনুসন্ধান করে নাই। দুদককে বলবো দয়াকরে সেগুলো একটু অনুসন্ধান করুন। 
 
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ায় সমস্ত পৃথিবী প্রশংসা করছে কিন্তু বিএনপি চোখ থাকিতে অন্ধ, কান থাকিতে বদির দেশের উন্নয়ন তাদের চোখে পড়ে না। কিছু কিছু কাগজেও কোন প্রশংসা নাই বরং সমালোচনা যেটি অত্যন্ত দুঃখ জনক। 
 
আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার জাকির আহম্মদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সংসদ সদস্য নাভানা আকতার, কামাল চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক আকতার হোসেন, সংগঠনের সভাপতি জিন্নাত আলি খান জিন্নাহ, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন টয়েল প্রমুখ।
 
ইত্তেফাক/ইউবি