স্থিতিশীল সিরিয়ার প্রতিশ্রুতি ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার

 
সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ ত্বরান্বিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়া। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় এক বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিশ্রুতি দেন দেশ তিনটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
 
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ওই বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, সিরিয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের নিজেদের স্বার্থ বজায় রাখার জন্য তারা নিরাপত্তাহীনতায় ইন্ধন যোগাতে চেয়েছিল; কিন্তু কোনো সাফল্যই পায়নি তারা।
 
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনাদের ‘শিগগির’ ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বললেও তারা ‘সিরিয়ায় থেকে যাবে’ বলে তিনি বিশ্বাস করেন বলেও জানিয়েছেন রুহানি।
 
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, আফরিনকে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা উচিত বলে এরদোগান ও পুতিনকে বলেছেন রুহানি। খবরে তুলে ধরা উদ্ধৃতিতে রুহানি বলেছেন, ‘তুরস্কের বাহিনী সিরিয়ার ভূখণ্ডগত ঐক্য লঙ্ঘন না করলেই কেবল আফরিনের বর্তমান পরিস্থিতি উপকারী হয়ে উঠতে পারে। ওই এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ সিরীয় সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা উচিত।’
 
এরদোগান বলেন, আফরিনের পর তুরস্কের সামরিক বাহিনী তেল রিফাত শহরে তুরস্কের সীমান্ত সংলগ্ন সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলগুলোতে অভিযান চালাবে। সংবাদ সম্মেলনে পুতিন ও রুহানির পাশে বসে এরদোগান তিন পক্ষের অংশগ্রহণ সম্ভব, প্রধানত এমন বিষয়গুলো নিয়েই কথা বলেছেন। তিনি জানান, পূর্ব গৌতা থেকে সরে আসা আহত ও অসুস্থ বেসামরিকদের চিকিত্সার জন্য একটি মোবাইল হাসপাতাল স্থাপন করতে চায় তুরস্ক।
 
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক সংলগ্ন পূর্ব গৌতা থেকে সরে আসা বেসামরিক ও বিদ্রোহী যোদ্ধারা তুরস্কের সীমান্তবর্তী সিরীয় প্রদেশ ইদলিবে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এসব আশ্রয়প্রার্থীর জন্য সীমান্তের উভয়পাশে বাসস্থান নির্মাণ ও তাদের খাবার সরবরাহের জন্য বেকারি স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন এরদোগান। তুরস্কের সীমান্ত সংলগ্ন সিরীয় এলাকাগুলোকে নিরাপদ স্থান হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলেছেন তিনি।
 
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় জেলা আফরিন থেকে কুর্দি ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের সরিয়ে দিতে সেখানে সরাসরি সামরিক অভিযান চালাচ্ছে তুরস্কের সামরিক বাহিনী। অপরদিকে ইদলিব ও গৌতা অঞ্চলে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর অভিযানে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে রাশিয়ার বিমান শক্তি ও ইরানপন্থি বেসামরিক বাহিনীগুলো। সিরিয়ায় কিছু সহিংসতা কমাতে দেশ তিনটি রাজনৈতিকভাবে সহযোগিতা করলেও লড়াইয়ের ময়দানে তাদের এই পরস্পর বিরোধিতা রয়েই গেছে।
 
রাশিয়া, ইরান ও তুরস্ক সিরিয়ায় একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত জানালেও সিরিয়ায় তাদের সামরিক বাহিনী পরস্পর বিরুদ্ধ পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে। ইরান ও রাশিয়া সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশারকে ব্যাপক সমর্থন দিচ্ছে, অপরদিকে তুরস্ক বাশার-বিরোধী তুরস্কপন্থি বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে।-রয়টার্স।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ