আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে সড়কপথে বরগুনা থেকে নৌকায় চড়ে ঢাকায় এসেছেন বরগুনা যুবলীগের সহসভাপতি ও বরগুনা পৌরসভার সাবেক কমিশনার হুমায়ুন কবির। চাকা লাগানো নৌকাটি ব্যাটারিচালিত একটি ভ্যানের সঙ্গে যুক্ত করে সড়কপথে চালানো হয়। এই নৌকায় রয়েছে রান্নাসহ মোবাইল চার্জের ব্যবস্থা। এছাড়াও আছে একটি বড় স্পিকার। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর বিজয় সরণির বালুরমাঠ এলাকায় হুমায়ুন কবির তাঁর নৌকাটি নিয়ে অবস্থান করছিলেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর পক্ষে প্রচারণার জন্য নৌকাটি বানান তিনি। পানিতে চলাচল উপযোগী সেই নৌকাটি বাহারি সাজে সাজিয়ে ব্যাটারিচালিত একটি গাড়ির ওপরে বসিয়ে সড়কে সড়কে প্রদর্শন করেন। প্রচারণা চালান নৌকা প্রতীকের পক্ষে। ব্যতিক্রমী এই প্রচারে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করে। বরগুনা-১ আসনে বিপুল ভোটে জয় পায় নৌকা প্রতীক। নৌকার জয় নিশ্চিত হলে হুমায়ুন কবীর নৌকাটি বরগুনার সার্কিট হাউজ লেকে রাখেন। এরপর শুরু হয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনেও তিনি এ নৌকা দিয়ে সড়ক, পাড়া-মহল্লা এমনকি অলি-গলিতেও প্রচার চালান। কিন্তু এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে যায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। নৌকা প্রতীকের পরাজয়ের সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে এ নৌকায় চেপেই গত ৪ এপ্রিল তিনি বরগুনা থেকে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। সোমবার তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ী পৌঁছান।
এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, আমি আমার নৌকাটি প্রধানমন্ত্রীকে দেখাতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। যে কোনো সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তিনি বরগুনা পৌরসভা নির্বাচন এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পরাজয়ের কারণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাবেন।
হুমায়ুন কবির আরো বলেন, যতদিন পারি আমি ঢাকায় থাকব। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ না করে আমি বরগুনায় ফিরে যাব না। সাক্ষাত্ না করে ফিরে গেলে আমি বরগুনাবাসীর কাছে কি জবাব দেব? কিছুটা আক্ষেপ ও দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাতে কোনোদিন ঝিগাতলায় আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে, কোনোদিন গুলিস্তানের অফিসের সামনে থেকেছি। একেক দিন রাতে একেক জায়গায় নৌকার ভেতরেই ঘুমিয়েছি। কিন্তু দলের কোনো নেতা আমার সঙ্গে দেখা করেননি।