কোটা সংস্কার ইস্যুতে ঢাবি ছাত্রলীগের কয়েক নেতার পদত্যাগের ঘোষণা

কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ঢাবি ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন ছাত্রলীগের একাধিক নেতা। এছাড়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অনেক নেতা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছেন। তবে ছাত্রলীগ বলছে যারা পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছে সংগঠন বিরোধী কাজ করার জন্য তাদেরকে পূর্বেই অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। 
 
পদত্যাগের ঘোষণা দেয়া নেতারা হলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অনুষদের ট্যুরিজম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ সাইফ, শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হক শাখা ছাত্রলীগের উপ-অ্যাপায়ন বিষয়ক সম্পাদক অছিবুর রহমান, ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগের সাধারণ সম্পাদক শরীফ হাসান সুজন।
IMG0
পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্যুরিজম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ সাইফ সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রলীগ জাতির পিতার নিজ হাতে গড়া সংগঠন। ছাত্রলীগ ডাকসুর ভূমিকা পালন করে। ছাত্রলীগ ছাত্রদের অধিকারে কাজ করে। ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের বন্ধু। ছাত্রলীগের ভূমিকা কি দেখা গেলো। এই ছাত্রলীগ কোন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ করে জানি না। আমার বঙ্গবন্ধু আলাদা। তাই সজ্ঞানে আমি ট্যুরিজম এন্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আর না, অনেক হয়েছে।
IMG1 
এ বিষয়ে বিজনেস অনুষদ শাখার সভাপতি মো. বোরহান উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, আমি শুনেছি সে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে। আমি এখনো পদত্যাগপত্র হাতে পাইনি।
 
এছাড়া চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসান আল মামুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখার সহ সভাপতি। ছাত্রলীগের একাধিক পদধারী নেতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন।  
IMG2
ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বহু নেতাকর্মীর কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষপাতি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চালানো এক জরিপে অসংখ্য ছাত্রলীগের পদধারী নেতা কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে বলে মত দেন। 
 
এছাড়া কোটা সংস্কার চেয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে ছাত্রলীগের অনেক নেতাই আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রবাল রৌশনী উল্লেখযোগ্য।
IMG3
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সামনে রেখে ছাত্রলীগ নেতাদের পদত্যাগ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি আবিদ আল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, যারা পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছে সাংগঠনিক নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করার কারণে সংগঠন হতে তাদের আগেই অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এখন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তারা ফোকাস হতে চাচ্ছে। 
 
ইত্তেফাক/কেআই