সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনের বিধি আরও ২৫ বছর বহাল রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সংবিধানে সপ্তদশ সংশোধনী আনতে সংসদে বিল উঠেছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল মঙ্গলবার ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল-২০১৮’ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে তা পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
বিলটি উত্থাপনের সময় আপত্তি জানিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, পিছিয়ে পড়া এলাকার জন্য বিশেষ বিধান করতে সংবিধানে বাধা নেই। পার্বত্য বা উপকূলীয় বা হাওর অঞ্চলের জন্য এটি করা যায়। নারী সমাজের বিশেষ অংশের জন্য, অরাজনৈতিক মহিলাদের বঞ্চিত করে শুধু রাজনৈতিক মহিলাদের জন্য আলাদা বিধান করা যায় না। প্রস্তাবিত বিলটি আইন হলে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। পরে আইনমন্ত্রী তার আপত্তি খারিজ করে বলেন, সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
অষ্টম জাতীয় সংসদে ২০০৪ সালে সংবিধান সংশোধন করে সংরক্ষিত নারী সদস্যের ৪৫টি আসন সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টনের ব্যবস্থা করা হয়। তখন এ আইনের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয় পরবর্তী সংসদের অর্থাত্, নবম সংসদের প্রথম বৈঠক থেকে দশ বছর। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি। সেই হিসেবে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের মেয়াদ আছে ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।
২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। সে অনুযায়ী ৩৫০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে গঠিত বর্তমান জাতীয় সংসদে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে ৩০০ জন এবং সংসদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। তবে পঞ্চদশ সংশোধনীতে ওই বিধির মেয়াদ না বাড়ানোয় ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারির পর সেটির আর কার্যকারিতা থাকবে না। এ কারণেই ওই বিধির মেয়াদ আরও ২৫ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব তোলা হয়েছে সংসদে।