g অ জে য় চৌ ধু রী
লাক্সতারকা বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত ‘নীল দরজা’ নামের একটি ওয়েব সিরিজ সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে। এর গল্পে দেখা যায়, সিলেটের এক বাড়িতে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধের আগমন হয়। লোকটি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তার মেকআপ তুলতে শুরু করে। মেকআপ তোলার পর দেখা যায় তিনি বৃদ্ধ নন, একেবারের তরুণ। নাম মীর্জা এলিয়াদ, পেশায় ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট। কিন্তু অনলাইন দুনিয়া তাকে চেনে বিভিন্ন নামে। ব্লগে তার নাম রাবণ, ফেসবুকে ঋষি ভাই আর তার ইউটিউব ফিল্টার পেপার। অনলাইনের এই বিভিন্ন প্লাটফর্মে থেকে সমাজ আর রাষ্ট্রবিরোধী লোকের মুখোশ উন্মোচন করাই তার কাজ। এ কারণেই রাবণ, ঋষি ভাই কিংবা ফিল্টার পেপার অনলাইন দুনিয়ার দারুণ জনপ্রিয়। নিজের অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে বেরিয়ে যায় মীর্জা। সোর্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সিলেটের এক জায়গায় তাবাসসুমের দেখা পায় সে। ষোড়শী এই মেয়েটাকে খুব বাজেভাবে তাড়া করছিল কিছু লোক, মেয়েটার জীবন সংশয়ে পড়ে। ওই মুহূর্তে অ্যাসাইনমেন্টটা না করে নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মেয়েটাকে উদ্ধার করে নিজের বাসায় নিয়ে আসে সে। তাবাসসুম বলে তার ফিরে যাওয়ার কোনো পথ খোলা নেই। বেঁচে থাকতে চাইলে তাকে আড়ালেই থাকতে হবে। এরপর ঘটে নানা ঘটনা। গোলাম সোহরাব দোদুলের পরিচালনায় এই ওয়েব সিরিজে অন্য এক মিমকে খুঁজে পাওয়া যায়। এই ওয়েব সিরিজে তাবাসসুম চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। তার বিপরীতে অভিনয় করছেন দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। এ প্রসঙ্গে মিম বলেন, ‘এর আগে দোদুল ভাইয়ের ‘সাপলুডু’ সিনেমাতে অভিনয় করেছি। সিনেমাটিতে কাজ করার অভিজ্ঞতাটা ছিল দারুণ। আমি খুবই আশাবাদী সিনেমাটি নিয়ে। আশাবাদী ওয়েব সিরিজটি নিয়েও। কারণ ‘নীল দরজা’য় একটা অন্যরকম গল্প বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। চঞ্চল ভাইয়ের সঙ্গে অভিনয় আমি সবসময়ই দারুণ উপভোগ করি। তিনি অনেক বড় মাপের একজন অভিনেতা। তার সঙ্গে কাজ করার বোঝাপড়াটা আমার চমত্কার।’ সর্বশেষ কলকাতায় মুক্তি পায় মিম অভিনীত ‘থাই কারি’ ছবিটি। এদিকে অনিমেষ আইচের পরিচালনায় ‘বিউটি অ্যান্ড দ্য বুলেট’ নামেরও একটি ওয়েব সিরিজ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এতে মিমের সহশিল্পী হিসেবে আছেন তাহসান খান। অন্যদিকে বড় পর্দায় মিম অভিনীত ‘সাপলুডু’ সিনেমাটিও রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। গোলাম সোহরাব দোদুল পরিচালিত এই ছবিতে তিনি জুটি বেঁধেছেন আরিফিন শুভর সঙ্গে। এরমধ্যে ইউটিউবে ‘সাপলুডু’র ট্রিজার প্রকাশিত হয়েছে। আর তাতেই মিমের অভিনয়ের প্রশংসা করছেন সবাই। আশাবাদীও হয়ে উঠেছেন মিমের ভক্ত দর্শকেরা। সবাই আশা করছেন যে ‘সাপলুডু’-তে নতুন এক মিমকে পাওয়া যাবে। চলতি বছরেই মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে ছবিটির। পাশাপাশি মিম লাক্সের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডরের দায়িত্বও পালন করছেন। সম্প্রতি লাক্সের নতুন একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ শেষ করলেন তিনি। এই বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেছেন মেধাবী নির্মাতা আদনান আল রাজীব। বিজ্ঞাপনচিত্র প্রসঙ্গে মিম বলেন, ‘লাক্স মানেই নতুন নতুন আইডিয়া। বরাবরই লাক্সের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করে সম্মানিত বোধ করি। রোজার মধ্যে এটির প্রচার শুরু হবে। এখানে আমাকে একজন মডেল হিসেবে দেখা যাবে। আশা করছি দর্শকেরা নতুন কিছু দেখতে পাবেন।’ খালিদ মাহমুদ মিঠু পরিচালিত ‘জোনাকির আলো’ সিনেমায় অভিনয় করে মিম প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। তবে মিম এটা অনায়াসে স্বীকার করেন তার আজকের সাফল্যের নেপথ্যে তার মা ছবি সাহা ও বাবা বীরেন্দ্র নাথ সাহার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। এ বিষয়ে মিম বলেন, ‘আমার বাবা-মায়ের চেষ্টায়, আশীর্বাদে আমি আজকের এ অবস্থানে পৌঁছেছি। বিশেষত আমার মায়ের কথা বলতেই হয়, তিনি আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন।’