গণঅভ্যুত্থানে খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া এবং গণতন্ত্র মুক্ত করতে হবে। এছাড়া কোনো পথ নেই। জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হবে। জনগণের গণ-অভ্যুত্থান ঘটাতে হবে। শুধু বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য নয়, এটা বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য। এটা বাংলাদেশের সত্যিকার অর্থেই মুক্তির জন্য। অন্যথায়, এই সরকার বাংলাদেশকে যে অবস্থায় নিয়ে গেছে, সেখান থেকে বের হওয়ার আসার জন্য অন্য কোনো পথ আছে বলে, আমরা (বিএনপি) অন্তত মনে করি না।
 
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করা হয়।
 
শুধুমাত্র সাজা দেয়ার উদ্দেশ্যেই বেগম খালেদা জিয়ার নামে মিথ্যা এবং বানোয়াট মামলা দেয়া হয়েছে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। একের পর এক নীল নকশা তৈরি করে তা বাস্তবায়নের দিকে সরকার সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
 
বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দিলে সেটি নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ হবে জেনেই প্রধানমন্ত্রী কোটা পদ্ধতি সংস্কার না করে সেটা সম্পূর্ণ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন।
 
বেগম জিয়ার সাজার বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বলতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই, নিম্ন আদালতের হাকিম সাহেব অপেক্ষা করতে থাকেন, উপর থেকে কি নির্দেশ আসবে। এরপর সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। উচ্চ আদালতে কিছুটা ভরসা ছিল যে, তারা দেখেন রায়টা ঠিক হচ্ছে কি না। কিন্তু এখন সেটাও দেখে না। সকল রাজনৈতিক দল ও যারা গণতন্ত্র চান তাদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আসুন, আমরা একটি ইস্যুতে একমত হই। সেটা হলো, আমরা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে চাই। এই ইস্যুতে একটি জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন।
 
কোটা সংস্কার আন্দোলনের কথা উল্লেখ বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোটা পদ্ধতি বাতিল করতে পারেন না। তিনি রাগ করে বলেছেন। উনি এটা করতে পারেন না। তাঁর সেই এখতিয়ার নেই। এই ঘোষণাটা সংবিধানের বাইরে। আর ছাত্ররা চেয়েছিল কোটা পদ্ধতি সংস্কার। কিন্তু তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সেটা না করে কোটা পদ্ধতি উঠিয়ে দিয়েছেন! জানেন যে, এটা কোর্টে উঠলে আটকে দেয়া হবে। যার ফলে এখন পর্যন্ত গেজেট হয়নি। এখন পর্যন্ত অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
 
বিচ্ছিন্ন আন্দোলন করে বা ছাত্রদের কিংবা একটি শ্রেণির আন্দোলন করে কোনো লাভ হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, কারণ জনগণের প্রতিনিধিত্ব থাকলেই তো সেই সরকার জনগণের কথা চিন্তা করবে। এই কারণে আমরা বলেছি, আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার চাই। আর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে। সেই নির্বাচন অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। এর বাইরে হলে সেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না।
 
৫ জানুয়ারি নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, যে নীল-নকশায় ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করা হয়েছিল, সেই অবস্থায় এখনও পরিবর্তন হয়নি। আরও ভয়াবহ অবস্থা রয়েছে।
 
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 
 
ইত্তেফাক/কেআই