খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের বিরুদ্ধে আনা তথ্য গোপনের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে আপিল বোর্ড। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্ত জানান আপিল বোর্ডের প্রধান খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. লোকমান হোসেন মিয়া।
গত ১৭ এপ্রিল বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু তালুকদার খালেকের বিরুদ্ধে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেয়া হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ করেছিলেন। ওই অভিযোগের ওপর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে শুনানি। এ সময় তালুকদার আব্দুল খালেক ও নজরুল ইসলাম মঞ্জুসহ তাদের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক দাবি করেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। শুনানি শেষে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খণ্ডন করার জন্য যেসব সাপোর্টিং কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিল, তিনি সেগুলো আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। শুনানিতে আপিল কর্তৃপক্ষ দুই পক্ষের কথা শুনেছেন ও তাদের আইনজীবীদের সামনে কাগজপত্র দেখেছেন।
খালেক বলেন, আমার কথা একটাই- যারা অভিযোগ দেন, আসলে এগুলো না করে তারা জনগণের কাছে যাক। ১৫ তারিখ ভোট হবে, জনগণ যাকেই ভোট দেবে তিনিই মেয়র নির্বাচিত হবেন। অফিসে খোঁচাখুঁচি করে কোনো লাভ নেই।
পরে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু সাংবাদিকদের বলেন, আমি আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিয়েছিলাম। উনি (তালুকদার আব্দুল খালেক) একটি কাগজ দাখিল করেছেন, যা অসম্পূর্ণ। ব্যাংকের একটি কাগজ জমা দিয়েছেন, যাতে শুধু এমডির স্বাক্ষর রয়েছে। কিন্তু পরিচালনা পর্ষদের কোনো অনুমোদন নেই, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির যে কাগজ জমা দিয়েছেন সেটিও গ্রহণযোগ্য নয়। এ ছাড়া তিনি (তালুকদার আব্দুল খালেক) বলেছেন, ইস্টার্ন পলিমার লিমিটেড থেকেও তিনি কুইক (ছেড়েছেন) করেছেন। আমার তিনটি অভিযোগের একটিরও সপক্ষে তিনি যথাযথ কাগজপত্র দিতে পারেননি। আশা করছি, আপিল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সঠিক ব্যবস্থা নেবে। আর তা যদি না হয়, তাহলে হলফনামার দরকার ছিল না।
খুলনা সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু গত ১৬ এপ্রিল রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ১৭ এপ্রিল নির্বাচনী আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
তাতে উল্লেখ করা হয়, তালুকদার আব্দুল খালেক সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ইস্টার্ন পলিমার লিমিটেডের পরিচালক ও সর্বময় নিয়ন্ত্রণকারী। এখান থেকে তিনি নিয়মিত বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেন। নির্বাচনী হলফনামায় এসব তথ্য গোপন করেছেন তিনি। এমনকি ইস্টার্ন পলিমার লিমিটেডের নেয়া ঋণের তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া দলীয় মনোনয়নপত্রে তার ভোটার নম্বর উল্লেখ করা হয়নি।
আগামী ১৫ মে খুলনা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২৩ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর পরদিন প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
ইত্তেফাক/এসএস