হোমওয়ার্ক করে না আনায় নারায়ণগঞ্জে চেইঞ্জেস স্কুল নামের ইংরেজি মাধ্যমের একটি বিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে ৭৩ বেত্রাঘাত করায় অভিযুক্ত শিক্ষককে বহিষ্কার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার দুপুরে চেঞ্জেস ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা আলোচনার মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুলকে বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত নেন। গত মঙ্গলবার চেঞ্জেস স্কুলের চাঁদমারী ক্যাম্পাসে আইসিটি বিষয়ে হোমওয়ার্ক করে না আনায় ৭ম শ্রেণির ছাত্র সৈকত কুমার পালকে ৭৩ টি বেত্রাঘাত করেন আহত করে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক। ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীকে তার খানপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনাটি স্কুল কর্তৃপক্ষ খুব গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখেন পরিচালকবৃন্দ, অভিভাবক ও শিক্ষকদের যৌথ সিদ্ধান্তে আইসিটি শিক্ষক নাজমুলকে বহিষ্কার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই সিদ্ধান্তে নির্যাতিত শিক্ষার্থীর বাবা সুরিথ পাল সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
সুরিথ কুমার পাল জানান, ওই শিক্ষক হয়তো মানসিকভাবে অসুস্থ্। কারণ, কোনো সুস্থ্ মানুষ এমন কাজ করতে পারে না। তবে আমি স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট। তাই এখন আর অন্য কোনো পদক্ষেপে যাব না।
স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জিএম ফারুক বলেন, ‘আমাদের স্কুল যখন ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ওই সময় থেকেই আমাদের বাচ্চাদের বেত্রাঘাত করে শাসন করতে শিক্ষকদের নিষেধ করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও কালকের এই ঘটনা অত্যান্ত দুঃখজনক। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই স্কুলের শিক্ষার্থীরা ওয়াল্ড হাইস্ট মার্ক পেয়ে যাচ্ছে। এছাড়া স্কলার শিফট নিয়ে কানাডা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পড়াশোনা করছে। কেউ আবার উচ্চ পর্যায়ের গবেষণামূলক কাজ করছে।'
আরও পড়ুন: তিন ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার
তিনি আরও বলেন, ‘বাবা মায়ের শিক্ষার পরে যেখান থেকে শিশুরা শিখে, সেটা হলো স্কুল। এই স্কুলে যখন শিক্ষার্থীরা আসবে, তখন তারা নীতি, নৈতিকতা আর মূল্যবোধটা শিখবে। আগামীতে কোনো শিক্ষক যাতে কোনো শিক্ষার্থীর প্রতি এ ধরনের মারমুখী আচরণ না করে, সে জন্যই তাৎক্ষণিক ওই শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
ইত্তেফাক/কেকে