আবাহনী ২ ঃ ২ পাঞ্জাব মিনার্ভা
স্পোর্টস রিপোর্টার
খেলার ধরনটা যেমন ছিল তাতে সাদাচোখে দেখলে মনে হচ্ছিল ঘরের মাঠে আবাহনীর জেতার দিন। কিন্তু ভারতের পাঞ্জাব মিনার্ভা এফিসির বিপক্ষে এএফসি কাপের ম্যাচটায় আবাহনী সেই সুযোগ নিতে পারেনি। দায়টা আবাহনীরই। ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ফ্লাড লাইটের আলোয় হয়ে যাওয়া ম্যাচটায় আবাহনী আরো একটু সচেতন হয়ে খেললে জয়টা নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত। কথাটা মানছেন আবাহনীর পর্তুগীজ কোচ মারিও লেমস। খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ঢোকার আগে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়রা নাইজেরিয়ান সানডেকে নিয়ে অপেক্ষায় থাকা লেমস বলছিলেন ম্যাচটা জেতার মতোই পরিস্থিতিতে ছিল। কিন্তু কিছু কিছু মিসটেক আবাহনীকে জয়ের কাছে যেতে দেয়নি। কোচ বলছিলেন গোলের সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে। তা না হলে গোল হবে কিভাবে।’
ভারতের এই পাঞ্জাব মিনার্ভা এফসির বিপক্ষে আবাহনী দুইবার গোল হজম করে পিছিয়ে ছিল। সেখানে থেকে ২ গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরা আবাহনীর গোলের সুযোগও তৈরি করেছিল আন্তর্জাতিক ম্যাচে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে সেই দোষ নিজেদের ঘাড়েই নিতে হবে। সানডেও রাখঢাক না করে বললেন আমরা আসলেই গোল মসি করেছি।
আবাহনী নিজেদের প্রথম খেলায় নেপালের মানাং মার্সিয়াংদী ক্লাবকে হারিয়েছিল ১-০ গোলে। আর ভারতের পাঞ্জাব মিনার্ভা চেন্নাই এফসির বিপক্ষে গোল শূন্য ড্র করে ঢাকায় এসেছিল আবাহনীর বিপক্ষে লড়াই করতে। তারা ১ পয়েন্ট নিয়ে ফিরে গেছে। বাংলাদেশের আবাহনী ঘরের মাঠে ১ পয়েন্ট নিয়ে দুই খেলায় ৪ পয়েন্ট পেল।
আবাহনী ১৫ মিনিটে গোল হজম করে, নিজেদের অমনযোগিতায় গোল হজম করে পিছিয়ে যায়। মাকান উইনকেল গোল করেন ১-০। ২০ মিনিটে সেই গোল ফিরিয়ে দিয়ে খেলায় সমতা আনে আবাহনী। হাইতিয়ান বেলফোটের ক্রসের বল ব্যাকহিল করে গোল করেন নাবীব নেওয়াজ জীবন ১-১। গোলের আগেও সুযোগ নষ্ট হয়েছে আবাহনীর। আফগান ফুটবলার সাইঘানীর হেড বাইরে যায়। আবাহনীর ডিফেন্ডার রায়হান এবং গোলকিপার সোহেল দুইজনের ভুলের কারণে ৪৩ মিনিটে গোল হজম করে পিছিয়ে যায় (২-১) আবাহনী।
অচেনা মাঠে মিনার্ভা খেলার শুরু হতে নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারছিল না। আবাহনীর সেই সুুযোগটা নিতে পারেনি। মিনার্ভার খেলা দেখে মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল যেন আবাহনী অতিথি। ক্ষণে ক্ষণে এমনটাই মনে হচ্ছিল। আবাহনীর রক্ষণভাগে তপু বর্মনের অনুুপস্থিতিতে ওয়ালী ফয়সাল, রায়হানদের এমনটাই মনে হচ্ছিল। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে রক্ষনে নামিয়ে আনতে হয়েছিল। তারপরও বলা যায় একটু সাহস করলেই যেন আবাহনী ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারত। সেটা না নিতে পারাটা আবাহনীর ব্যর্থতা।
মিনার্ভা আই লিগের গত বারের চ্যাম্পিয়ন, এবারের ৯ নম্বর দল। আবাহনী দ্বিতীয় স্থানে লিগে। তারপরও খেলায় দুই দলের মধ্যে পার্থক্য খুব একটা ছিল না। ৪৮ মিনিটে আবাহনীর সানডে দ্বিতীয় গোল করে আবাহনীকে আবার সমতায় ফেরান ২-২। আবাহনীর তৃতীয় খেলা চেন্নাইয়ের দলের বিপক্ষে।