প্রচণ্ড কাল বৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে রাজধানী। গতকাল সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে আকস্মিক এ ঝড় আঘাত হানে। ঝড়ের কবলে পড়া লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে দ্বিগবিদ্বিগ ছোটাছুটি করতে শুরু করে। অফিস থেকে বাসাগামী লোকজন চরম দূর্ভোগের মধ্যে পড়েন। ঝড়ের বেগ তীব্রতা হওয়ায় যানবাহনগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান খুঁজে। এদিকে প্রচণ্ড এই ঝড়ে রাজধানীর অনেক এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৩ কিলোমিটারেরও বেশি ছিল। তবে ঝড়ে কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বাতাসের তীব্রতায় রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ ছিল। প্রচণ্ড বাতাসে রাজধানীতে কোথাও কোথাও টিনের চাল উড়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে সাইনবোর্ড, গাড়ি চলাচলও থেমে যায় কোনো কোনো সড়কে। বিদ্যুতের দুই তার এক হয়ে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঢাকায় এমন ঝড়ের প্রচণ্ডতা খুব একটা দেখা যায় না। রবিবার বৈশাখ মাসের ৯ তারিখ। কাগজে কলমে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ এই দুই মাস গ্রীষ্মকাল। এ সময়ে প্রায়ই প্রকৃতিতে রুদ্র্ররূপে আসে কালবৈশাখী। গতকাল সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ কিছুটা মেঘলা ছিল। তেমন রোদ না থাকলেও ছিল ভ্যাপসা গরম। ছিল অস্বস্তিকর অবস্থা।
আবহাওয়া পূর্বাভাস কর্মকর্তা শাহীনুল ইসলাম বলেন, গতকাল সন্ধ্যা ৬টার পরই ঢাকায় কালবৈশাখী ঝড়ের সৃষ্টি হয়। এ সময় মহাখালী-আগারগাঁওসহ সংলগ্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৮৩ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যায়। এটি উত্তর-পশ্চিম থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়। বিকালের পর রাজধানীর বাইরে খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলেও তীব্র কালবৈশাখী হানা দিয়েছে বলে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ মৌসুমে প্রতিদিন বিকালেই এ ধরনের ঝড় হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। তীব্র কালবৈশাখী আধা ঘণ্টার মতো স্থায়ী জানিয়ে আবহাওয়াবিদ শাহীনুল বলেন, এ সময় বজ্রঝড়ও ঘটে। তাই আকাশে কালো মেঘ ও বজ্রপাত দেখলে অন্তত ৩০ মিনিট নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা উচিত।
ঝড়ে ঢাকায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে, গুলশান-১, মিরপুর-১০, তেজগাঁওয়ের লাভ রোড, যাত্রাবাড়ী, ধানমণ্ডি ও মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধসহ রাজধানীর প্রায় অর্ধশত জায়গায় সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তেজগাঁওয়ের তেজকুনিপাড়ায় দেওয়াল ধসের ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সমরেন্দ্র কর্মকার জানান, এপ্রিল-মে মাসে আবহাওয়া সাধারণত গরম থাকে। এ সময় বজ্রপাতের অনুকূল পরিবেশও তৈরি হয়। সে কারণে উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে কালবৈশাখীর আভাস পেলেই ঘণ্টাখানেকের জন্য আগাম পূর্বাভাস দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বৈশাখে বায়ুমণ্ডলে বাতাসের তাপমাত্রা ভূ-ভাগের উপরিভাগের তুলনায় কম থাকে। এ অবস্থায় বেশ গরম আবহাওয়া দ্রুত উপরে উঠে গেলে আর্দ্র বায়ুর সংস্পর্শ পায়। তখন গরম আবহাওয়া দ্রুত ঠাণ্ডা হওয়ায় প্রক্রিয়ার মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে বজ্রমেঘের সৃষ্টি হয়।
ইত্তেফাক/নূহু