ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বর্জন করুন

ড. মুনীরউদ্দিন আহমদ

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে গত ৯ এপ্রিল দৈনিক ইত্তেফাকে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে। সম্পাদকীয়তে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দেশে আমদানি করছে হিমায়িত মহিষ, ভেড়া ও দুম্বার মাংস—যার একটি বড় অংশ মেয়াদোত্তীর্ণ। অন্যদিকে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আমদানি করা দুম্বা-ভেড়ার মাংস দেশে ঢুকেই হয়ে যাচ্ছে খাসি, মহিষ অথবা গরুর মাংস। ভয়ঙ্কর কথা হলো, এই সকল মেয়াদোত্তীর্ণ এবং নাম পরিবর্তিত মাংস ঢাকার বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেল, সুপারশপ হতে শুরু করে দেশের চার শতাধিক প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় হচ্ছে। এমনকী আমদানি করা মাংসগুলো জীবাণুমুক্ত কিনা, তাও যাচাই করা হচ্ছে না। কিছুদিন আগে একটি অভিযানে রাজধানীর তেজগাঁও-নাবিস্কো এলাকার একটি হিমাগার হতে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ দুম্বা ও মহিষের মাংস, খেজুর, কিসমিস, আচার, চিপস, মাখন এবং টুনা, রূপচাঁদা ও চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়। ওই সকল খাদ্য ছিল ইথিওপিয়া, সৌদি আরব, দুবাই, তিউনিসিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ হতে আমদানিকৃত, যার মেয়াদ বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে। এমনকী ২০০৬ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুরও ওই সকল হিমাগারে পাওয়া গেছে, যা আসন্ন রমজান মাসে বাজারজাত করার পরিকল্পনা ছিল।

সামনে রোজা ও ঈদ। রোজা, ঈদ বা যেকোনো উত্সবে মানুষ একটু নিরাপদ, ভেজালমুক্ত ভালো খাবার খেতে চায়। কিন্তু এদেশের মানুষের দুর্ভাগ্যই বলতে হবে যে কোনো কিছুই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়া নিশ্চিন্ত মনে খাওয়ার উপায় নেই। দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, প্রতিদিনকার পত্র-পত্রিকা ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর শুনে বা পড়ে মনে হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ ভেজাল ও ক্ষতিকর খাবারে সারাদেশ সয়লাব হয়ে গেছে। এই বিচিত্র দেশে খাঁটি জিনিসের এতই অভাব যে, অনেক দ্রব্য বা পণ্যের গায়ে বা বিজ্ঞাপনে ’খাঁটি’ শব্দটি ব্যবহার করে ভোক্তাকে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি ভয় দেখানো হয়—বাজারে সব পছন্দের জিনিস খাঁটি হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দৈনন্দিন জীবনের জন্য মাছ, মাংস, চাল, ডাল, সেমাই, দুধ, চিনি, মাংস, ফলমূল বা আপনার পছন্দের জিনিসটি কিনবেন? আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন না—এই মাছ, মাংস, চাল, ডাল, সেমাই, দুধ, চিনি, মাছ, মাংস, ফলমুল খাঁটি কি নকল। খাঁটি সরিষার তেল, খাঁটি নারিকেলের তেল, খাঁটি দুধ, খাঁটি মধু, আসল গরুর মাংস, মহিষের নয় বা আসল খাসির মাংস, ভেড়ার নয়— কথাগুলো শুনতে শুনতে আমরা এখন অতিমাত্রায় সন্দেহপ্রবণ হয়ে পড়েছি এবং আসল আর ভেজাল চিনতে ব্যর্থ হচ্ছি।

আমরা দৈনন্দিন জীবনে যেসব খাবার খাই তার গুণগত মানের নিশ্চয়তা প্রদান করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকারের সেদিকে নজর আছে বলে মনে হয় না। নজর থাকলেও সারাদেশে দুর্নীতির মাত্রা এমন ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে যে, সরকারের পক্ষে তা আর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভবপর হয়ে উঠছে না। অথবা ধারণাটি এমনও হতে পারে যে অশিক্ষিত, কুশিক্ষিত, হতদরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষের আবার এত মান বিচার কেন? উন্নত বিশ্বে কোনো জিনিসের নামের আগে খাঁটি শব্দটি ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার দরকার হয় না। কারণ, ওসব দেশে সবরকম খাবারই সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারিতে থাকে। খাবার, বিশেষ করে শিশুদের খাবার নকল বা ভেজাল হলে আর রক্ষা নেই।

আমাদের দেশে বিয়ে-শাদি বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমরা যেসব খাবার পরিবেশন করি বা খাই তা স্বাস্থ্যের জন্য কম ক্ষতিকর নয়; বরং আমি বলব বেশি ক্ষতিকর। পোলাও, বিরিয়ানি, রোস্ট, গরু বা খাসির মাংসে যে পরিমাণ তেল, ডালডা, চর্বি, ঘি ব্যবহার করা হয় তা কোনোমতেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। গরু বা খাসির মাংসে এমনিতেই প্রচুর চর্বি এবং কোলেস্টেরল থাকে। তার ওপর আরো বাড়তি তেল, চর্বি, ঘি দিয়ে খাবারকে হয়তো সুস্বাদু করা হয় বটে; কিন্তু তা কোনোমতেই স্বাস্থ্যসম্মত হয় না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এ জাতীয় খাবার খাওয়ার কারণে আমাদের দেশে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হূদরোগ, ডায়াবেটিসের প্রবণতা মারাত্মক হারে বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কথাটি এ প্রসঙ্গে অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলে আমি মনে করি। সম্প্রতি রেড মিট বা লাল মাংস খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছেন গবেষকরা। কারণ রেড মিট শরীরে ক্যান্সার তৈরি করে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুতরাং অধিক পরিমাণে রেড মিট বা গরু ও খাসি খাওয়ার ব্যাপারে সবাইকে সাবধান হতে হবে। সুষম স্বাস্থ্যকর খাবার আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে বিশেষ অবদান রাখে। পরিমিত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা, প্রোটিন বা আমিষ, লিপিড, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, বিশুদ্ধ পানীয়, আঁশজাতীয় খাবার স্বাস্থ্যকর খাবারের অন্তর্ভুক্ত। উল্লিখিত খাবারের মধ্যে শাকসবজি-ফলমূলের আধিক্য থাকা অবশ্য বাঞ্ছনীয়। শাকসবজি-ফলমূল হলো ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ পদার্থ এবং আঁশজাতীয় দ্রব্যের অফুরন্ত ভাণ্ডার। আমাদের দেশের শিশু-কিশোররা শুধু মাংস এবং তেল-চর্বিজাতীয় খাবার খেতে চায়। ফলমূল, শাকসবজির প্রতি তাদের প্রচণ্ড অনীহা। এ প্রবণতা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। শাকসবজি-ফলমূল, আঁশসমৃদ্ধ সুষম খাবার শরীরের ওজন, হূদরোগ, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই ছোটোকাল থেকে শিশুকে শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে। নাহলে পরবর্তী জীবনে তাদের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগতে হতে পারে।

সারাবিশ্বে মানুষের মধ্যে অন্য আরেকটি অশুভ প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। আমরা ওষুধ কোম্পানিগুলোকে ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ পদার্থের একমাত্র উত্স হিসেবে বিবেচনা করি এবং এসব কেনার জন্য প্রচুর অর্থ-কড়ি ব্যয় করি। আমাদের মনে রাখা উচিত, প্রাকৃতিক উত্স থেকে প্রাপ্ত ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা খনিজ কোম্পানি কর্তৃক কৃত্রিম উপায়ে প্রস্তুত পিল বা ট্যাবলেটের চেয়ে বেশি কার্যকর। স্থূলকায় শিশু-কিশোরদের আইসক্রিম, ক্যান্ডি বা ফাস্টফুডের অপকারিতা সম্পর্কে জ্ঞানদান অত্যন্ত প্রয়োজন। কালেভাদ্রে দুয়েকবার খাওয়া গেলেও জাঙ্কফুডের প্রতি আসক্তি এবং প্রতিনিয়তই এসব খাওয়া সবার জন্য সমূহ বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সময় থাকতেই অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করে সুষম, পুষ্টিকর স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ করে স্থাস্থ্য ভালো রাখুন। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বলতে দামি খাবার বোঝায় না। আপনি যদি উচ্চ রক্তচাপের রোগী হন, আপনার যদি হূদরোগ থাকে, তবে বিয়ে-শাদি বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশিত তেল, চর্বি, ঘি-সমৃদ্ধ খাবার পরিহার করুন নতুবা কম খান। বিয়েতে একান্তই যেতে হলে এবং খেতে হলে সাদা ভাত বা আটার রুটির ব্যবস্থা রাখুন। দরকার হলে বাসা থেকে ভাত বা রুটি সঙ্গে নিয়ে যান। আপনি ডায়াবেটিস হূদরোগে ভুগলে প্রচুর চিনিসমৃদ্ধ কোমল পানীয় বর্জন করুন। পানীয় হিসেবে বিশুদ্ধ পানির কোনো বিকল্প নেই। আপনি হয়ত জানেন না, পরিশোধিত চিনি হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের অন্যতম কারণ।

ওপরে মেয়াদোত্তীর্ণ যে মাংসের কথা বলা হয়েছে তা খাওয়ার ব্যাপারে অন্য ধরনের এক বড়ো বিপদ রয়েছে। বর্তমানে গবাদি পশু ও পোলট্রি উত্পাদনে স্টেরয়েড ও অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিঃসন্দেহে জনস্বাস্থ্যের জন্য প্রচণ্ড ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঝুঁকি বিশেষ কোনো অঞ্চল বা দেশের জন্য নয়, এই ঝুঁকি সারা বিশ্বের জন্য। বিশ্বায়নের এই যুগে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বিস্তার কোনো সীমানা মানছে না। যুক্তরাষ্ট্রের মতো পশ্চিমা দেশগুলো যেমন গবাদি পশু ও পোলট্রি উত্পাদনে স্টেরয়েড ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছে, তেমনি বাংলাদেশের মতো অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোও এই একই ক্ষতিকর ওষুধের মাধ্যমে মাংস উত্পাদন করছে। আর আমরা সেই মাংস প্রতিনিয়ত খাচ্ছি এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও বিষক্রিয়ার শিকার হচ্ছি। মাংস উত্পাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারের কারণে যে সুপারবাগের সৃষ্টি হচ্ছে তা এক সময় মহামারী আকারে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং মানবসভ্যতার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর এই কারণে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, এফডিএ ও বিশ্বের ভোক্তা সংগঠনগুলো গত ৩০ বছর ধরে গবাদিপশু ও পোলট্রিতে স্টেরয়েড ও অ্যান্টিবায়োটিক একান্ত প্রয়োজন না হলে ব্যবহার না করার জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছে। ভোক্তা সংগঠনগুলো মনে করে, মাংস উত্পাদনের জন্য ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করে জনস্বাস্থ্য তথা মানবসভ্যতাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া যায় না। বাংলাদেশেও স্টেরয়েড ও অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে গবাদিপশু ও পোলট্রি উত্পাদিত হচ্ছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও সরকার ব্যাপারটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে অনতিবিলম্বে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এটা দেশবাসীর প্রত্যাশা।

দৈনন্দিন জীবনে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের শাকসবজি ও ফলমূলও কমবেশি খেতে হয়। শাকসবজি ও ফল-মূলও নির্ভেজাল নয়। কীট-পতঙ্গের আক্রমণ থেকে শাকসবজি ও ফল-মূলকে রক্ষা করার জন্য একদিকে ব্যবহার করা হয় কীটনাশক এবং ফলমূল পাকানো ও পচন রোধকল্পে অন্যদিকে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ফরমালিন। যে শাকসবজি বা ফলমূল মানুষ খায় তাতে ব্যবহূত ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ফরমালিন ও কীটনাশক যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মানবদেহের অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনে তবে সেসব কীটনাশক, ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা ফরমালিন যেকোনো মাত্রায় ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন তুলে কি হবে যদি এসব ক্ষতিকর রাসায়নিকের অপব্যবহার রোধ করা না যায়। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া আমাদের ক্রমাগত অতিপ্রাকৃতিক করে তুলছে। কীটনাশকের কাজ হলো কীট হত্যা করা। এমনকি এসব কীটনাশক মানুষের মৃত্যুর কারণও হতে পারে। প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ৩০ লাখ মানুষ কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ মারা যায়। এসব মৃত্যুর বেশির ভাগ ঘটে অনুন্নত বিশ্বে। কীটনাশক ব্যবহারে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কৃষকদের প্রশিক্ষণ থাকে না এবং তার কারণে কীটনাশকের অপব্যবহার হয়। কীটনাশকের কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশু ও উঠতি বয়সী শিশুরা। এমনকি খুব অল্প পরিমাণ কীটনাশক পর্যন্ত বাড়ন্ত ছেলেমেয়েদের বয়োবৃদ্ধির ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কীটনাশক শরীরে প্রবেশ করলে যেসব শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দেয় তার মধ্যে রয়েছে, স্মৃতিশক্তি বিলোপ, সমন্বয়হীনতা, উদ্দীপকের প্রতি বিলম্বে সাড়া প্রদান, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত আবেগ ও আচরণ, স্নায়ুর দক্ষতা হ্রাস, হাঁপানি, অ্যালার্জি, অতিমাত্রায় সংবেদনশীলতা, ক্যান্সার, হরমোনের কার্যাবলি বাধাপ্রাপ্ত হওয়া, প্রজনন ও ভ্রূণের বয়োবৃদ্ধির সমস্যা।

ফলমূল ও শাকসবজিতে ব্যবহূত কীটনাশক ও সবরকম বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রভাবে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয় ক্যান্সারে। আপেল, টমেটো, জাম, মরিচ, আঙুর, লেটুস, ব্রোকলি, স্ট্রবেরি, পালংশাক, সবুজ শিম, মটরসুটি, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পটল, শশা, ঢেঁড়শ, করলা ইত্যাদিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। অনেক শাকসবজি ও ফলমূল ঘষে লবণ-পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিলে ফরমালিন বা কীটনাশকের মাত্রা কমে যায়। কীটনাশকের ধরন, পরিমাণ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দেশের জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তাই সরকারের উচিত কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া ও স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি করা। পশ্চিমা বিশ্বে অর্গানিক খাবারের কদর দিন দিন বাড়ছে। আমাদের বুঝতে হবে প্রকৃতিতেই রয়েছে প্রকৃত সমাধান। তাই আমাদের কৃত্রিমতা ছেড়ে প্রকৃতিতেই ফিরে যেতে হবে। তা না হলে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের কারণে দেশের মানুষের সঙ্গে সঙ্গে শাকসবজি, ফলমূল রপ্তানিতেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।

আমাদের সবসময় মনে রাখা উচিত, অসুস্থ হওয়াটা এক বিরাট অভিশাপ। সুস্বাস্থ্যই সব সুখের মূল। সুস্থ থাকার জন্য আমাদের সদা সচেষ্ট থাকা দরকার। কোনোমতেই শরীরের ওপর অত্যাচার করবেন না। যাঁরা বলেন, ‘শরীরের নাম মহাশয় যাহা সহায় তাহাই সয়’—এ কথাটি ঠিক নয়। পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের সবার একটু পড়াশোনা করা দরকার। আপনি এবং আপনার পরিবারের সব সদস্যের জন্য একটি স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। সুস্বাস্থ্য আমাদের জীবনে শুধু আনন্দই বয়ে আনে না, সুস্বাস্থ্য আমাদের উপহার দেয় অফুরন্ত কর্মচাঞ্চল্য, উত্সাহ-উদ্দীপনা, শক্তি—যা আপনার জীবনে বয়ে আনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। তাই আসুন, আমরা সবাই খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইল পরিবর্তন করে সুস্থ থাকতে সচেষ্ট হই।

n লেখক : প্রফেসর, ক্লিনিক্যাল ফার্মের্িস ও ফার্মাকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্য্যলয়