সুখ কিনব কোথা থেকে?

সুবোধ চন্দ্র বিশ্বাস

আইয়ুব বাচ্চুর ভীষণ জনপ্রিয় একটি গান আছে—‘সুখেরই পৃথিবী সুখেরই অভিনয় / যত আড়ালে রাখো / আসলে কেউ সুখী নয়।’

সত্যিই কি আমরা সুখের অভিনয় করি মাত্র? গবেষকরা কিন্তু বলছেন, সুখী হওয়াটা একটি চর্চার বিষয়। অর্থাত্ একজন মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটাবার মতো সবকিছু থাকলেও সে সুখী নাও হতে পারে। আবার কারো খুব সামান্য কিছু থাকলেও সে সুখী হতে পারে। সেই যে আমরা ছোটবেলায় পড়েছিলাম পর্ণকুটিরে থাকা এক সুখী মানুষের গল্প— রাজার এমন অসুখ হয়েছে যে, রাজবদ্যি জানালেন—সুখী মানুষের জামা লাগবে। রাজ্যজুড়ে সুখী মানুষ খুঁজতে গিয়ে যাকে পাওয়া গেল দেখা গেল সেই সুখী মানুষের কোনো জামা নেই। কিন্তু আপনি যদি সুখী হতে চান, তাহলে আপনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ফর্মুলা মেনে চলতে হবে। সুখী হওয়ার জন্য ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় পাঁচটি টিপস দিয়েছে।

প্রথমত, আপনি একটি ‘কৃতজ্ঞতা’র তালিকা তৈরি করুন। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যান্টোস তার শিক্ষার্থীদের বলেন, প্রত্যেক রাতে তারা যাদের কাছে বা যেসব জিনিসের কাছে কৃতজ্ঞ তার একটি তালিকা তৈরি করতে।

দ্বিতীয়ত, আরো বেশি করে ও নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চেষ্টা করুন। এই কাজটা করা সবচেয়ে সহজ বলে মনে হয়, কিন্তু আসলে এই কাজটা করা খুব কঠিন। কারণ, এখানে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, প্রতি রাতে আট ঘণ্টা করে ঘুমানো। আমরা সবাই জানি যে, বেশি ঘুমাতে পারলে এবং নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারলে বিষণ্নতায় ভোগার সম্ভাবনা কম থাকে। এর ফলে ইতিবাচক মনোভাবও তৈরি হয়।

তৃতীয়ত, ধ্যান করুন। আপনার কাজ হবে প্রত্যেকদিন ১০ মিনিট করে মেডিটেট বা ধ্যান করা। ধ্যানের সময় একজন মানুষকে পূর্ণ মনোযোগ দিতে হয়, যা তাকে সুখী হতে সাহায্য করতে পারে।

চতুর্থত, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আরো সময় কাটান। কারণ, গবেষণায় পরিষ্কার একটি বিষয় দেখা গেছে যে, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ভালো সময় কাটালে আপনার সুখের অনুভূতি বৃদ্ধি পায়।

পঞ্চমত, সোশাল মিডিয়ায় যোগাযোগের পরিবর্তে বাস্তবে এই যোগাযোগ বৃদ্ধি করুন। অধ্যাপক স্যান্টোস মনে করেন, সোশাল মিডিয়া থেকে সুখের বিষয়ে মিথ্যা যেসব ধারণা পাওয়া যায় সেসবে ভেসে যাওয়া উচিত নয়। কারণ, সর্বশেষ গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যম ব্যবহার করেন তারা, যারা এটা খুব বেশি ব্যবহার করেন না তাদের চাইতে কম সুখী।

সুতরাং পাওয়া গেল সুখের সূত্র, এবার কিনে ফেলুন একমুঠো সুখ।

n লেখক : শিক্ষক