আব্দুল্লাহ মাহমুদ
শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের মনকে আলোকিত করা। যেমনভাবে প্রভাতের সূর্য রাতের আঁধারকে দূর করে এই ভুবনকে নতুন আলোকিত ভুবনে রূপান্তর করে। ঠিক তেমনিভাবে শিক্ষা মানুষের অন্তরের সকল অজ্ঞতা, সংকীর্ণতা দূর করে মানুষকে গড়ে তোলে আলোকিত মানুষ হিসেবে। দেশ ও জনগণের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ সাধনে জীবনমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। তার জন্য শিক্ষার সংস্কার আনা প্রয়োজন। প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, এমনকি উচ্চশিক্ষার মূল স্তর পর্যন্ত নতুন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের একটি বিরাট অংশের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি চাকরি। একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাগ্রহণের উদ্দেশের সঙ্গে এটা কতটুকু যৌক্তিক? বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদানের উদ্দেশ্য এবং পিতামাতার কাছে সন্তানের শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যের সঙ্গে একটি মিল পাওয়া যায়, আর তা হলো বাহ্যিক পরিবর্তন। যেখানে মানবিক পরিবর্তন অনুপস্থিত। দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক অসুস্থ প্রতিযোগিতা নিয়ে ব্যস্ত। পিতামাতা ও তাদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে এই ছলনাময়ী খেলাতে অংশগ্রহণ করছেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এ পথ থেকে পিছিয়ে নেই। এই যদি হয় শিক্ষা ব্যবস্থার অবকাঠামো— এই দেশ ও জাতি ছাত্র সমাজ হতে কি আশা করতে পারে। বছর শেষে লক্ষ লক্ষ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী বেকারে পরিণত হচ্ছে। এর ফলে ব্যক্তিগত জীবনে হতাশা, নিরাশা—পারিবারিক জীবনে তারা হেয়প্রতিপন্ন হয়। ফলে হতাশা ও মাদকের হাতে নিজেকে সঁপে দিয়ে নিজেকে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড় করায়।
এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, তাহলে কি কোনো পথ অবশিষ্ট নেই? হ্যাঁ, আছে। আমাদের প্রত্যেককে জীবনমুখী শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। এটা এমন এক শিক্ষা, যেটা প্রত্যেক মানুষকে নিজের চিন্তাবোধ জাগ্রত করে নিজেকে চিনতে শেখায়। প্রত্যেকের অন্তরে জ্বেলে দেয় জ্ঞানের এক আলোকময় দীপ্তি। যে রাস্তায় হাঁটলে আলোকময় হয়ে উঠবে তার জীবন। সেটা হতে পারে ব্যক্তিগত, সামাজিক অথবা রাষ্ট্রীয় জীবনে।
এখন আমাদের জানা আবশ্যক যে, জীবনমুখী শিক্ষার উত্স কোথায়? কোন স্থান হতে এই শিক্ষা অর্জন করতে পারি?
এই শিক্ষার প্রধান উত্স হলো পরিবার, ভালো বই এবং সত্সঙ্গী। একজন ব্যক্তির জীবনমুখী শিক্ষা অর্জনে মুখ্য ভূমিকা রাখে তার পরিবার। কেননা পরিবারের মাধ্যমেই ব্যক্তি এই শিক্ষা পেয়ে থাকে যে কীভাবে তার জীবনের সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে সফলতা অর্জন করতে পারে। এর জন্য পিতামাতা তথা অভিভাবকদের উচিত সন্তানের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা। যেন তার সন্তান ভালো রেজাল্ট নয়, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ভালো বই এবং সত্সঙ্গী এই শিক্ষার অন্যতম প্রধান উপাদান। কেননা কিছু ভালো বই মানুষের জ্ঞান সমপ্রসারণে এবং আত্মশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। অন্যদিকে সত্সঙ্গী মানুষকে সত্ উপদেশ, বিপদে সাহায্য, ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করে। এতে করে ব্যক্তি আত্মপ্রতিষ্ঠিত হতে অনুপ্রেরণা লাভ করে।
সেই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক দিক হতে কীভাবে একজন শিক্ষার্থীকে যথাযথ জীবনমুখী শিক্ষা প্রদান করা যায় সেদিকে কর্তৃপক্ষের যথেষ্ট নজরদারি প্রয়োজন।
n লেখক :শিক্ষার্থী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ