ইত্তেফাক রিপোর্ট
বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় পোশাক উত্পাদনকারী দেশ। এটি বাংলাদেশের সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী খাত। এই খাতে প্রায় ৪২ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত, যাদের ৬০ শতাংশই নারী। বিগত সময়ে এই খাতে সরকার কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, দক্ষ কর্মী তৈরিতে প্রশিক্ষণসহ নানা পদক্ষেপ নিলেও এখনও শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সেভাবে প্রাধান্য পায়নি।
গতকাল স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সাসটেইনেবল এ্যাপারেল সামিট ২০১৯ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এসএনভি নেদারল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ও ডাচ-বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিবিসিসিআই) যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, পোশাক শ্রমিকদের সম্মানজনক মজুরির পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও জরুরি। কারণ এই খাতে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা না হলে এর স্বাভাবিক উত্পাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। যা আমাদের সামগ্রিক অর্জনকে প্রভাবিত করবে। তিনি আরও বলেন, রানা প্লাজার ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটা আমাদের জন্য সুদূরপ্রসারী কিছু ইতিবাচক কার্যক্রম গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশস্থ নেদারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক প্রধান জারন স্টিগস সামিটে আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, পোশাক শিল্পখাতে কর্মরত ৪০ লাখ শ্রমিকের জন্য টেকসই উন্নয়ন অপরিহার্য, যেহেতু এর অধিকাংশই নারী। বাংলাদেশে একমাত্র পোশাক শিল্পখাতই অনগ্রসর নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য এসব নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সামিটে বাংলাদেশে পোশাক শিল্প শ্রমিকদের টেকসই উন্নয়নের জন্য এসএনভি নেদারল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এর পক্ষ থেকে তিনটি ‘ইনক্লুসিভ বিজনেস মডেল’ উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বাংলাদেশের বেটার ওয়ার্ক প্রোগ্রাম ম্যানেজার অ্যানি লর হ্যানরি গিয়ার্ডসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, দেশীয় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, ক্রেতা, ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট শিল্পপতিগণ, দাতা ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশস্থ ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ম্যারি অনিক বর্ডিন এবং বাংলাদেশস্থ নেদারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক প্রধান জারন স্টিগস। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএনভি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর জেসন ব্যালেঞ্জার। সামিটে সমাপনী বক্তব্য রাখেন ডাচ-বাংলা চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর প্রেসিডেন্ট ও বিজিএমইএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান।