স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের সাফল্য বিশেষ করে হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশে সফররত কঙ্গোর জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী অলিলুঙ্গা কালেঙ্গা। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বড় বড় শহরগুলোতে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি গ্রাম পর্যায়ের তৃণমূল দরিদ্র মানুষের জন্য মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছে সরকার। গ্রামের ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ভাবন হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম এখন সারা বিশ্বে উদাহরণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিকে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিত্সা এবং ৩২ ধরনের ওষুধ পাচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য তথ্য সংরক্ষণ হচ্ছে এবং প্রয়োজনে রাজধানীর চিকিত্সকদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে চিকিত্সা নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত কর্মসূচিগুলোর সফল বাস্তবায়নে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তা কামনা করেন।
বাংলাদেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের পাশাপাশি শহরাঞ্চলের বস্তিগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন আরো তত্পর হওয়ার জন্য পরামর্শ দেন বিশ্ব ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের শহরের বস্তিগুলোর স্বাস্থ্যমান উন্নয়নে স্থানীয় সরকার বিভাগ মূল ভূমিকা রাখে। এই ব্যবস্থা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় কিনা সরকার তা বিবেচনা করছে।
এ সময় গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিশেষ উপদেষ্টা জোনাথান সিম্বাবাকাই, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ফয়েজ আহম্মেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী মোস্তফা সারোওয়ারসহ বিশ্ব ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জাও সচিবালয়ে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন।
ইত্তেফাক/নূহু