কর্মস্থল হোক নিরাপদ

বিশ্বব্যাপী অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে চিত্রিত হয়ে আছে পাঁচ বছর আগের রানা প্লাজা দুর্ঘটনা। ওই দুর্ঘটনার পাঁচ বছর শেষেও ভয়াবহ এ দুর্ঘটনাকে ভুলতে পারছেন না বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা। নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও চোখের জলে স্মরণ করেছেন স্বজনদের। শোক আর প্রতিবাদে স্মরণ করেছেন শ্রমিক নেতারাও। সবার দাবি, গার্মেন্টসসহ সব কর্মক্ষেত্রই যেন শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ হয়। আর যেন কোনো রানা প্লাজা কিংবা তাজরীনের মতো দুর্ঘটনা দেখতে না হয়। সেই সঙ্গে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পেছনে দায়ীদের পাঁচ বছরেও বিচার না হওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণে স্থায়ী কোনো নীতি-কাঠামো না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব, জুরাইন কবরস্থান ও সাভারে রানা প্লাজার দুর্ঘটনাস্থলের সামনে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এসব দাবি উঠে আসে।

শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রসহ বেশকিছু শ্রমিক সংগঠন এবং তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জুরাইনে শ্রমিকদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। জাতীয় প্রেসক্লাব ও সাভারে রানা প্লাজার দুর্ঘটনাস্থলেও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন সভা, সমাবেশ মানববন্ধন করার মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের স্মরণ করেন এবং নিরাপদ কর্মস্থলের আওয়াজ তোলেন।

এ ছাড়া সকাল থেকেই রানা প্লাজা ধসে নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিক ছাড়াও সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল ধসেপড়া রানা প্লাজা চত্বরে। সবার কণ্ঠে ছিল আহত-নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের শাস্তির দাবি। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে রানা প্লাজার সামনে হাজির হন। নিহত শ্রমিকের স্বজন ও আহত শ্রমিকদের অনেকেই এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেক সন্তান হারা মা তার নিখোঁজ সন্তানের ছবি বুকে জড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। সকালে স্থানীয়  সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান নিহতদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ ছাড়া রানা প্লাজা দুর্ঘটনাস্থলে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ ছাড়াও শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

একই স্থানে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র সভাপতি মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা  রানা প্লাজার জায়গা অধিগ্রহণ করে তাদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করতে সে জায়গা ব্যবহার করার দাবি জানান।এ ছাড়া কারখানা সংস্কারে আমেরিকাভিত্তিক ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স, শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ক্লিন ক্লথস ক্যাম্পেইন ছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শ্রমিক অধিকার সংগঠন আলাদা বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অ্যালায়েন্সের বিবৃতিতে বলা হয়, গত পাঁচ বছরে কারখানা সংস্কারের অর্জনকে যেন ধরে রাখা হয়।

ইত্তেফাক/নূহু