৫% নগদ সহায়তা চায় গার্মেন্টস উদ্যোক্তারা

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে

ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি বিজিএমইএ’র

ইত্তেফাক রিপোর্ট

গার্মেন্টস উদ্যোক্তাদের জন্য আপত্কালীন ৫ শতাংশ (রপ্তানি মূল্যের ওপর) হিসেবে নগদ সহায়তা চায় এ খাতের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। মজুরি বৃদ্ধি, প্রতিযোগী দেশের মুদ্রার মান কমায় বাড়তি প্রতিযোগিতার মুখে পড়াসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ সহায়তা চাওয়া হয়। গতকাল বুধবার উত্তরায় নির্মাণাধীন বিজিএমইএ’র নতুন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনটির বিদায়ী সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। নির্মাণাধীন ভবনটিতে গত সোমবার থেকে অফিসের কার্যক্রম শুরু করেছে সংগঠনটি। নতুন অফিসে এটি প্রথম, আর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের শেষ সংবাদ সম্মেলন।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শিল্পে ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দিলে সরকারের ব্যয় হবে ১৪ হাজার কোটি টাকা। এতে করে অনেক শিল্পোদ্যোক্তা টিকে থাকতে পারবেন। অনেক কারখানা বন্ধ হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। ফলে শ্রমিকের কর্মসংস্থান ঠিক থাকবে। অবশ্য নগদ সহায়তা দিলে ওই লাভ উদ্যোক্তার বদলে বিদেশি ক্রেতার পকেটে চলে যাবে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

প্রায় পৌনে চার বছরের দায়িত্ব পালনকালে এ খাতের জন্য তার সময়ে নেওয়া কিছু উদ্যোগ তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে আগামীতে দায়িত্ব নিতে যাওয়া পর্ষদের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গণে দেশের পোশাক শিল্পের সঠিক ব্র্যান্ডিংই মূল কাজ হবে বলে মনে করেন তিনি। এ সময় গার্মেন্টস শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত গার্মেন্টস খাতে উত্পাদন খরচ বেড়েছে ৩০ শতাংশ। আর নতুন করে মজুরি বৃদ্ধির পর উত্পাদন খরচ বেড়েছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাকের দরপতন হয়েছে যথাক্রমে ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ ও ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ সময় তিনি বলেন, বিগত পাঁচ বছরে ১ হাজার ২শ’ কারখানা বন্ধ হয়েছে। নতুন মজুরি বাস্তবায়নের পর আরো অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে গার্মেন্টসের কাঁচামাল বাইরে বিক্রি করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুষ্টিমেয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে শিল্প হেয় হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি। এনবিআর এরকম কারো ট্রেড লাইসেন্স বন্ধ করলে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকেও তাদের সদস্যপদ বাতিল করা হবে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, এস এম মান্নান কচি, মোহাম্মদ নাছির, মাহমুদ হাসান খান বাবু প্রমুখ।