ঢাবিতে ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্তদের পরীক্ষা নেওয়ায় ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ায় ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি সমাধানের জন্য ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষ ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
 
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ইন্সটিটিউটের পঞ্চম সিমেস্টারের শিক্ষার্থীদের ৫০৩ নম্বর কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষা ছিল। এই সিমেস্টারের ছয়জন ছাত্রের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়ার অভিযোগ আছে। অভিযুক্তরা পরীক্ষা দিতে আসলে অন্য শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিবে না বলে ঘোষণা দেয়। এসময় বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক তাদেরকে বুঝিয়ে পরীক্ষা দিতে বসান। কিন্তু পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা আবার বিক্ষোভ শুরু করে। এতে ইন্সটিটিউটের সকল বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীরা যোগ দেয়। সকল বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে। এর আগে গত বুধবার অভিযুক্ত ছাত্ররা পরীক্ষা দিতে আসলে সিমেস্টারের অন্য ছাত্ররা বিক্ষোভ করলে কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে পরীক্ষা নেয়। 
 
ছাত্রদের বিক্ষোভের ঘটনায় ইন্সটিটিউটের শিক্ষকরা বিকেলে এক জরুরী অ্যাকাডেমিক সভায় মিলিত হন। সেখানে ইন্সটিটিউট পরিচালক অধ্যাপক ড. তানিয়া রহমানকে প্রধান করে ছয় সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটির ঘোষণা দেয়া হয় ছাত্রদের দাবির বিষয়টি সমাধানের জন্য। 
 
এ বিষয়ে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রোক্টর মুহাম্মদ মাইন উদ্দিন মোল্লা বলেন, ছাত্ররা জালিয়াতিতে অভিযুক্তদের সঙ্গে পরীক্ষা দিবে না বলে বিক্ষোভ করছে। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত নয়। এজন্য আমরা অভিযুক্তদের পরীক্ষা নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিলে আমরা কার্যকর করব।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, বিষয়টি দেখার জন্য ইন্সটিটিউটের অ্যাকাডেমিক কমিটি বসেছিল। তারা খতিয়ে দেখবে। 
 
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি সিআইডি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করে। আটককৃতরা ২০১৬-১৭ সেশনে ভর্তি হয়েছে এমন ১৫ জনের নাম প্রকাশ করে। এই ১৫ জনের মধ্যে সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ছয় জনের নাম গণমাধ্যমে আসে। তারা হলেন হাসিবুর রশীদ, মেহেদী, গালিব, সৌভিক, রাকিবুল ও সালমান এফ রহমান।  কিন্তু কর্তৃপক্ষ এসব অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। 
 
ইত্তেফাক/রেজা