ব হু ত্ব বা দে র যু ক্ত রা ষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্য

প্রথমবারের

মতো কংগ্রেসে এসেছেন সবচেয়ে কমবয়সী রাজনীতিবিদ আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিয়ো কোর্টেজ। প্রথম প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে কোনো সমকামী গভর্নর হিসেবে কলোরাডোয় নির্বাচিত হয়েছেন জ্যারেড পোলিস

শিফারুল শেখ

 

বিশ্বে বহুত্ববাদ রাষ্ট্র বলতে যা বোঝায় তা যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। সেই দেশেই আজ বর্ণবাদ প্রথা ক্রমেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। কিন্তু এর মধ্যেও অনেক সংখ্যালঘু কিংবা নিম্নবর্ণের মানুষ নিজেদের চেষ্টায় নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা ৩৩ কোটি। ২০১৭ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, দেশটিতে শ্বেতাঙ্গ ৭৬ দশমিক ৬ ভাগ, কৃষ্ণাঙ্গ ১৩ দশমিক ৪ ভাগ এবং এশিয়ান ৫ দশমিক ৮ ভাগ। ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্ণবাদী নীতি সত্ত্বেও’ গত ৬ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নারীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কয়েকটি রেকর্ড হয়েছে।

 

নেতৃত্বে শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্য

যুক্তরাষ্ট্রে জনসংখ্যার দিকে তাকালে দেখা যাবে এখানে বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন ধর্মের এবং বিভিন্ন বর্ণের মানুষ একসঙ্গে বাস করছেন। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, দেশটিতে সবক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্য বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৬২৪ জন নেতা আছেন যাদের মধ্যে ৩৯৮ জন পুরুষ ও ৯৩ জন নারী শ্বেতাঙ্গ। বাকিদের মধ্যে ৩৫ কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ ও ২৪ নারী; ২৮ হিস্পানিক পুরুষ ও ১৫ নারী; এশিয়ার ৭ পুরুষ ও ১১ নারী এবং অন্যান্য ৯ জন পুরুষ ও ৭ জন নারী রয়েছেন।

 

শ্বেতাঙ্গদের মন্ত্রিপরিষদ

যুক্তরাষ্ট্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ক্ষমতাধর। ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আরও ১৫ জন মন্ত্রী নিয়ে এটি গঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট আরও মন্ত্রী নিয়োগ দিতে পারেন। তবে তাদের ক্ষমতা খুব বেশি থাকে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্ত্রিপরিষদের বেশিরভাগ শ্বেতাঙ্গ এবং পুরুষ। ২৩ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদে ১৪ জন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ ও ৪ জন নারী; একজন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ; একজন হিস্পানিক পুরুষ; এশিয়ার একজন নারী এবং অন্যান্য বর্ণের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টে আধিপত্য

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা সবচেয়ে ক্ষমতাধর বিচারপতি। প্রেসিডেন্ট কর্তৃক মনোনয়ন এবং সিনেট কর্তৃক নিয়োগ পান। তাদের মেয়াদ আজীবন। তারা সংবিধানের ব্যাখা দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। সুপ্রিম কোর্টে ৯ জন বিচারপতির মধ্যে ৫ জন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ ও ২ জন নারী; একজন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ এবং একজন হিস্পানিক নারী আছেন।

 

গভর্নরের অধিকাংশ শ্বেতাঙ্গ

যুক্তরাষ্ট্রে ৫০টি রাজ্যের এবং ৫টি অঞ্চলের গভর্নর রয়েছেন। তারা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। চার বছরের মেয়াদে তারা নিজ রাজ্যে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন। ৫৫ গভর্নরের মধ্যে ৩৯ জন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ ও ৮ জন নারী; একজন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ; একজন হিস্পানিক পুরুষ ও একজন নারী; একজন এশিয়ান    পুরুষ ও অন্যান্য বর্ণের তিনজন পুরুষ ও একজন নারী আছেন।

 

কংগ্রেসে যাদের প্রভাব

কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট। ১০০ সিনেটরের মধ্যে ৭১ জনই শ্বেতাঙ্গ পুরুষ ও ২০ জন নারী। মাত্র দুইজন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ আছেন। বাকিদের মধ্যে ৩ জন হিস্পানিক পুরুষ ও একজন নারী, ৩ জন এশিয়ান নারী পদে আছেন। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ সদস্যের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ পুরুষ ২৬৮ ও ৫৯ জন নারী। ৩০ জন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ ও ২২ নারী, ২৩ জন হিস্পানিক পুরুষ ও ১২ নারী, এশিয়ান পুনরুষ ৯ জন ও ৭ জন নারী এবং অন্যান্য বর্ণের ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী আছেন।

 

মধ্যবর্তী নির্বাচনে যত রেকর্ড 

প্রথমত, নারী প্রার্থীরা রেকর্ড করেছেন। এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া নারী প্রার্থীদের সংখ্যা অন্য যে কোনো বছরের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। তাদের মধ্যে অনেকেই জয় পেয়েছেন। কংগ্রেসে ১০৭ জন নারী প্রার্থী ছিলেন এবং তারা সকলেই জয় পেয়েছেন। তবে এই প্রথমবারের মতো দুইজন মুসলিম নারী কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছেন। মিনেসোটা এবং মিশিগান রাজ্যের দুই ডেমোক্র্যাট রাজনীতিবিদ ইলহান ওইমার এবং রাশিদা তলাইব কংগ্রেসে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিতে আদিবাসী নারী হিসেবে কানসাসের শেরিস ডেভিডস ও নিউ মেক্সিকোর ডেবরা হাল্যান্ড ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। আদিবাসী আমেরিকান এ দুই নারীই ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রার্থী ছিলেন। শেরিস আমেরিকার আদিবাসী হো-চাঙ্ক জাতির সদস্য, আর ডেবরা এসেছেন পুয়েবলো অব লাগুনা থেকে। প্রথমবারের মতো কংগ্রেসে এসেছেন সবচেয়ে কমবয়সী রাজনীতিবিদ আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিয়ো কোর্টেজ। প্রথম প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে কোনো সমকামী গভর্নর হিসেবে কলোরাডোয় নির্বাচিত হয়েছেন জ্যারেড পোলিস।

দ্বিতীয়ত শহর-গ্রামের বিভক্তি: রিপাবলিকানরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখলেও নিম্নকক্ষে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। শহর এলাকার বাইরে ভোট হারিয়েছে রিপাবলিকানরা যা হয়ত দলটির জন্য ভবিষ্যতে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে শহর আর গ্রামের মানুষের মধ্যে যে বিভক্তি বাড়ছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে তা যেন আরও পরিষ্কার হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা এমন অনেক স্থানে ভোট পেয়েছেন যারা দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের ভোট দিয়ে আসছে। যেমন ভার্জিনিয়ার কয়েকটি স্থানে, ওয়াশিংটনের বাইরে দশম ও সপ্তম জেলায়, রিচমন্ড দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের দখলে থাকলেও এখন ডেমোক্র্যাটদের দখলে চলে গেছে। সারাদেশের স্থানীয় নির্বাচনেও এ রকম ঘটনা দেখা গেছে। এর অনেক জায়গার ভোটাররা ২০১৬ সালে ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন হয়ত তারা আর সেটি করতে আগ্রহী নন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের বড় চ্যালেঞ্জ হবে, কীভাবে এই মানুষদের তারা আবার নিজেদের দলে ফিরিয়ে আনবেন।