উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে ‘সমঝোতা গ্রাম’ পানমুনজুমে কয়েক দিন আগে যে ছবি তৈরি হয়েছে, নির্ধারিত কর্মসূচিতে তার কোনো উল্লেখ ছিল না। দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন সীমান্তের নিচু কংক্রিট বাউন্ডারির ধারে পৌঁছতেই, হাত বাড়িয়ে দেন উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন। প্রথমে করমর্দন করেন, তার পরে হাত ধরে টেনে নিজের দেশে ঢুকিয়ে নেন মুনকে, ঘুরিয়ে আনেন উত্তর কোরিয়ার কিছুটা ভিতরের দিক থেকে।
IMG0
আর এই অবিশ্বাস্য পদক্ষেপের মাধ্যমেই দশকের পর দশক ধরে পরস্পরকে যুদ্ধের হুঙ্কার শোনাতে থাকা উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া অত্যন্ত দ্রুত বদলে ফেলছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি। এর প্রেক্ষিতেই পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন, ভারত-পাকিস্তান কেন এইভাবে এগোতে পারবে না পরস্পরের দিকে? কেন হাত মেলাতে পারবেন না মোদী-আব্বাসি?
IMG1
কোরীয় উপদ্বীপের এই ছবি তুলে ধরে পাকিস্তানের ‘ডন নিউজ’ লিখেছে, ভারত এবং পাকিস্তানেরও উচিত এই পথই ধরা। ‘...দীর্ঘ দিনের সাংস্কৃতিক এবং অন্যান্য মিল ভারত ও পাকিস্তানে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে যে অভিন্ন ইতিহাস এবং অভিন্ন স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা দিয়েছে, তাতে সম্পর্কে স্বাভাবিকতা এবং শান্তি ফেরানো এই অঞ্চলের সবচেয়ে মহান লক্ষ্য।’
IMG2
যে সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে ভারত-পাকিস্তান শান্তি প্রক্রিয়ার পক্ষে সওয়াল করেছে ‘ডন’, তাতে অটলবিহারী বাজপেয়ীর লাহোর সফরের স্মৃতিচারণও করা হয়েছে। কিম জং উন এবং মুন জায়ে ইনের বৈঠক অবধারিত ভাবে ১৯৯৯ সালের সেই অভূতপূর্ব আশা-আকাঙ্ক্ষার দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ঐতিহাসিক সফরে পাকিস্তানের লাহোরে পা রেখেছিলেন— এমনই লেখা হয়েছে পাক সংবাদমাধ্যমে। দুই কোরিয়াকে দেখে ভারত এবং পাকিস্তানের শিক্ষা নেয়া উচিত বলে মত ‘ডন’ এর। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘আরো একবার শান্তি ও মৈত্রীর পথে হাঁটুক ভারত এবং পাকিস্তানের নেতৃত্ব, সেই সময় এসে গেছে।’ টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ইত্তেফাক/সেতু