শাকিব খানের ‘চালবাজ’ মুক্তির দিন রাজধানী মধুমিতা হলের সামনে দর্শকদের উপস্থিতি ছিলো দেখার মতো। হলের সামনে দেখা যায়- টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি, শো শুরুর ২ ঘণ্টা আগে থেকে লাইনে দাঁড়ানোর দৃশ্য। কিন্তু তারপর দিনই দেখা গেল ঠিক উল্টো চিত্র! পরের দিন যেন দর্শকদের ধস নেমেছে! রবিবার ও সোমবারের দৃশ্যও ছিলো এক। হলে দর্শকদের তেমন কোন আনাগোনা ছিলো না।
মধুমিতা হলের মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘শুক্রবারে সিনেমাটি দেখতে অনেক দর্শক ভীড় করেছেন। দর্শকদের দীর্ঘ লাইন ছিলো। কিন্তু তারপরদিন টিকিট বিক্রি অর্ধেক কমে গেছে। রবিবার ও সোমবারে আরো কম দর্শক আসে হলে। অবহাওয়ার খারাপ থাকা এই পরিস্থিতির অন্যতম কারন। এছাড়া অনেকেই ছুটিতে ঢাকার বাইরে গিয়েছেন। না হয় সিনেমাটি ভালোই চলতো।’
মধুমিতা হলের মতো শ্যামলী হলের অবস্থাও এক। শুক্রবার বেশ ভালোই চলেছিলো সিনেমাটি। কিন্তু তার পর দিন থেকে দর্শকের উপস্থিতি নেমে আসে অর্ধেকে। শ্যামলী হলের ম্যানেজার বলেন, ‘প্রথমদিন অনেক দর্শক সিনেমাটি দেখেছেন। শো হাউজফুলও হয়েছে। কিন্তু এরপর দর্শক অনেক কমে আসে। শেষ দুদিন ঝড়-বৃষ্টির কারনে হলের অবস্থা আরো খারাপ।’
এছাড়া রাজধানীর বাকি প্রেক্ষাগৃহগুলোর চিত্রও প্রায় এক। হল কর্তৃপক্ষরা আশা করছেন, আবহাওয়া ঠিক হলে আবারো প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের আনাগোনা বাড়বে।
গত ২৭ এপ্রিল ‘চালবাজ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আবারো প্রেক্ষাগৃহে ফিরেন শাকিব। জয়দীপ মুখার্জি পরিচালিত এই ছবিতে শাকিব ছাড়াও অভিনয় করেছেন কলকাতার অভিনেত্রি শুভশ্রী, রজতভ দত্ত, সৈয়দ হাসান ইমাম, আশীষ বিদ্যার্থী প্রমুখ। সিনেমাটি বাংলাদেশে আমদানী করছেন এন ইউ ট্রেডার্স।
‘চালবাজ’ নিয়ে শাকিব খান বলেন,‘খবর পেয়েছি, সিনেমাটি দেখতে দর্শকরা হলগুলোতে ভীড় করছেন। বেশ ভালোই চলছে সিনেমাটি। কারন ছবিটির গল্প থেকে শুরু হয়ে সব ভালো হয়েছে। আমি মনে করি বছরে একটি বা দুটি ছবি মুক্তি পেলেই যথেষ্ট। এমনিতেই দেখা যায় ঈদ বা উত্সব ছাড়া আমার অভিনীত ছবি মুক্তি পায় না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি হাতে থাকা ছবিগুলোর কাজ শেষ করে কিছুদিন বিশ্রাম নেব। এরপর নতুন উদ্যমে নতুনভাবে ভালো গল্পের ছবিতে অভিনয় করব। কোনো ছবির প্রস্তাব এলে তাতে আমার চরিত্র নিয়ে ভাবব। গল্প শুনে বা পড়ে এর খুঁটিনাটি বিষয়ে অবগত হয়েই অভিনয়ে সায় দেব।’
হল কর্তৃপক্ষগুলো বলছে, টানা বৃষ্টি হলে দর্শক খরা লেগেই থাকবে।’
ইত্তেফাক/রেজা