গাজীপুরে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক কলেজ ছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে এক বখাটে। বুধবার দুপুরে মহানগরের কোনাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শারমিন আক্তার লিজা (১৬) কোনাবাড়ি ক্যামব্রিজ কলেজের মানবিক বিভাগের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। সে কোনাবাড়ির আমবাগ ঈদগা মাঠ এলাকার মো. শফিক আহাম্মদের মেয়ে।
ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা বখাটে মো. মোস্তাকিনকে (১৭) আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। মোস্তাকিন স্থানীয় লিংকন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং একই এলাকার আবুল কাসেমের ছেলে।
ক্যামব্রিজ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মো. জহিরুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুরে পরীক্ষা শেষে লিজা তার এক বান্ধবী ও সতীর্থের সঙ্গে বাসায় ফেরার পথে কোনাবাড়ি কাঁচাবাজার এলাকায় পৌঁছলে কিছু বুঝে ওঠার আগে মোস্তাকিন চাকু দিয়ে লিজার বুকে আঘাত করে। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী মোস্তাকিনকে আটক করে পুলিশে দেয়। আহত লিজাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে ও পরে ঢাকার উত্তরায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক ছাত্রীকেতাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই সাদিম আহমদ সুজন জানান, মোস্তাকিন কলেজে আসা-যাওয়ার পথে লিজাকে উত্ত্যক্ত করত এবং তাকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিত। এ প্রস্তাবে লিজা রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকি দিত। সম্প্রতি হুমকির পর লিজা চার-পাঁচদিন ধরে কলেজে যাচ্ছিল না। বিষয়টি মোস্তাকিনের মা’কে মোবাইল ফোনে জানানোর পর দুইদিন আগে মোস্তাকিন ও তার মা বিষয়টি নিয়ে আর কোনো সমস্যা করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং লিজার মা-বাবার কাছে ক্ষমা চায়।
কোনাবাড়ি থানার ওসি মো. এমদাদুল হক জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত চাকুটিও উদ্ধার করা হয়েছে।