আবেগের বশে লোকসভার নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নিয়েছি :ফেরদৌস

তানভীর তারেক 

চলচ্চিত্র অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ ওয়ার্ক ভিসায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার ভিসা বাতিল করে গত মঙ্গলবার রাতেই ঢাকায় ফেরত পাঠিয়েছে। একইসঙ্গে তাকে সেদেশে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন, পূর্বপরিকল্পিত নয় বরং আবেগের বশে ভারতের লোকসভা  নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। এই নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়াটা তার ভুল ছিল।

জানা গেছে, ভিসা বিধি লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার পর ফেরদৌসের গ্রেফতার আশংকা, ভিসা বাতিল ও কালো তালিকাভুক্ত করার ঘটনায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে- এমন অভিযোগে সরগরম ফেসবুকসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া। তাকে নিয়ে নানাভাবে ট্রল করা হচ্ছে ফেসবুকে। ভারতীয় মিডিয়াগুলোতেও তাকে নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, ফেরদৌস আহমেদের সঙ্গে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনেন পশ্চিমবঙ্গ শাখা বিজেপির নেতা রাহুল সিনহা।

ভারতের নির্বাচনে প্রচারণার বিষয়টির পাশাপাশি বাংলাদেশে গত নির্বাচনে তার প্রচারণার বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে। নৌকার পক্ষে প্রচারণায় গত ডিসেম্বরে অংশ নেন ফেরদৌস। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফেরদৌস ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার পর ১৯৯২-৯৪ পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের মিছিলগুলোতে ফেরদৌসকে দেখা যেতো। ছাত্রদল গঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন ফেরদৌস। এই সংসদের তত্কালীন সভাপতি শামসুল আলম লিটন ইত্তেফাককে বলেন, ফেরদৌস তখন ছাত্রদল সমর্থন করতো। আমি তাকে চিত্রপরিচালক মতিন রহমানকে অনুরোধ করে চলচ্চিত্রে দেই। পরে যখন তাকে দেখলাম আওয়ামী লীগের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে তখন বেশ অবাক হয়েছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের তত্কালীন সহসভাপতি সাহিদুল হোসেনও জানান, ছাত্রদলে সক্রিয় ছিল ফেরদৌস। এদিকে, মঙ্গলবার রাত ৯ টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকা অবতরণ করেন ফেরদৌস। বিমানবন্দরে কর্তব্যরত এক কাস্টমস অফিসার জানান, মাথায় ক্যাপ পরে ডান হাতে নিজের মুখ ঢেকে বের হতে গেলে দুই একজন চিনে ফেলেন তাকে।