ভবন অবৈধ :ভুল স্বীকার করল বিজিএমইএ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত রাজধানীর হাতিরঝিল প্রকল্পের বিজিএমইএ ভবনটি এখন ভাঙার অপেক্ষায়। এ ভবনটি অবৈধভাবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এতদিন নিজেদের কোনো দায় ছিলো না বলে দাবি করে আসছিলো গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তবে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ভালোভাবে জমি বুঝে না নেওয়াকে নিজেদের ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের ভালোভাবে ইপিবির কাছ থেকে জমি বুঝে নেওয়া উচিত ছিলো। ভালোভাবে বুঝে নেইনি, এটি ভুল ছিলো। অবশ্য এর পেছনে মূল দায় জমির বিক্রেতা ইপিবির (রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো) ঘাড়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমরা পুরো টাকাই পরিশোধ করেছি। কিন্তু ভুল করেছে ইপিবি। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন সোনারগাঁও হোটেলের পাশে দেওয়ার জন্য কিন্তু ইপিবি দিয়েছে অন্য জায়গায়। অর্থাত্ ভুলটা করেছে ইপিবি। অবশ্য সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ জন্য ইপিবির কাছে কোনো ক্ষতিপূরণ চাইনি। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে চাইবো।  বহুল আলোচিত ওই ভবনটি ১২ এপ্রিলের মধ্যে খালি করার নির্দেশনা ছিলো আদালতের। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভবনটি সিলগালা করে রাজউকের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। বিজিএমইএ তাদের মালামাল সরিয়ে নিয়ে উত্তরার নির্মাণাধীন ভবনে গত সোমবার থেকে কার্যক্রম শুরু করে।

এদিকে আগামী ২০ এপ্রিল রুবানা হকের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন পর্ষদ। এর মধ্যেই ওই ভবনে আরো থাকতে  সময় বাড়ানোর জন্য আদালতে একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এক বছরের মধ্যে নিজস্ব ভবনে যাবো বলে আদালতে মুচলেকা দিয়েছিলাম। এরপর সময় বাড়ানোর আবেদন করতে পারি না। যদি কেউ আবেদন করে থাকেন, তার বিচার চাই।  এদিকে গতকাল উত্তরার নির্মাণাধীন বিজিএমইএ ভবনটি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, একরকম জনমানবহীন ওই এলাকায় পানি, বিদ্যুত্সহ বিভিন্ন পরিষেবার স্থায়ী ব্যবস্থা হয়নি। দুই তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ব্যাংকের শাখা নেই। বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে কার্যক্রম রক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতিও নেই। নিরাপত্তার শঙ্কাও করছেন নতুন নির্বাচিত পর্ষদের বেশ কয়েকজন সদস্য।