এত গাঁজা কারা খায়!

শুক্রবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থেকে ১৬০ কেজি বা চার মণ গাঁজা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সাম্প্রতিককালে এটি গাঁজার সবচেয়ে বড় চালান আটক করা হলো। ঘটনাস্থল থেকে যে দুজন গাঁজা ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়, তারা জানিয়েছেন, চালানের অর্ধেক অংশ যাত্রাবাড়িতে আর বাকি অংশ গাজীপুরে সরবরাহ করার কথা ছিল। সাম্প্রতিককালে দেশে ইয়াবা নিয়ে বেশ হৈ চৈ হলেও গাঁজা নিয়ে তেমন মাতামাতি নেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, সবাই এখন ইয়াবার পেছেনে ছুটছে। এর পেছনে তারা সোর্সমানি ব্যবহার করছেন বেশি। কিন্তু গাঁজা এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত গাঁজা ঢুকে পড়ছে দেশে। বিশেষ করে কসবা, আখাউড়া, বিজয়নগর, দেবিদ্বার এবং কুমিল্লা সদর গাঁজা পাচারের অন্যতম রুট। সীমান্ত পারের পর সেখানকার বিভিন্ন বাসায় (বাংলাদেশ অংশে) এ সব গাঁজা মজুদ করা হয়। এরপর সেখান থেকে চাহিদামতো দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়।
 
গাঁজার বড় বাজার ঢাকা। প্রতিমাসে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা থেকে ঢাকায় আসছে হাজার কেজি গাঁজা। গাঁজার চালানের একটি বড় অংশ ট্রেনে আসে। অনেক সময় ট্রেনে বিমান বন্দর রেলস্টেশন থেকে কমলাপুর রেল স্টেশনের বিভিন্ন অংশে যায়।  রেল পুলিশের  জিজ্ঞাসাবাদে এমনই তথ্য জানিয়েছে গাঁজা বহনকারী  কবির হোসেন ও মোহাম্মদ জিসান।
 
ঢাকা রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াসিন ফারুক মজুমদার বলেন, গ্রেফতারকৃত কবির হোসেন ও জিসান নিজেদের গাঁজার ক্যারিয়ার হিসেবে দাবি করেছে। জব্দকৃত গাঁজার মালিক কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানার শশীদল এলাকার রজিম ও বাবুল বলে তারা দাবি করেছে।
 
গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, প্রায় প্রতি সপ্তাহে তাদের মতো অনেকেই গাঁজার চালান নিয়ে ঢাকায় আসে। আর চালান বহনের জন্য প্রতিবার তারা পেয়ে থাকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। তাদের হিসেবে প্রতি মাসে কম করে হলেও হাজার থেকে ১২শ কেজি গাঁজা কুমিল্লা সীমান্ত থেকে ঢাকায় আসছে।
 
জানা গেছে, এর আগে পাহাড়ি এলাকায় যে গাঁজা চাষ হতো। কিন্তু গাঁজাসেবীরা এখন আর পাহাড়ি গাঁজার ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। তাদের কাছে এখন ভারত থেকে আসা গাঁজার চাহিদা বেশি। এ কারণে ভারত থেকে গাঁজা এনে বিক্রি করে অনেকে অর্থ বিত্তের মালিক বনে গেছেন। খোদ রাজধানীতে কয়েকটি গাঁজা সিন্ডিকেটের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। সম্প্রতি কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আনা একশ কেজি গাঁজা খিলক্ষেত থেকে আটক করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশের বিমান বন্দর জোনাল টিমের সদস্যরা চার মাসে ১২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে। ডেমরা এলাকার একজন ব্যবসায়ী এ সব গাঁজা আমদানির সাথে জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার ওই ব্যবসায়ীর আস্থানায় হানা দিলেও তিনি পালিয়ে বাঁচেন।
 
গত ৩০ এপ্রিল ১২৫ কেজি গাঁজাসহ রুবেল এবং কবির হোসেন নামের দুজন গাঁজা ব্যবসায়ীকে আটক করেছিল পুলিশ। অ্যাম্বুলেন্সে করে এ সব গাঁজা তারা এনেছেন কুমিল্লা সীমান্ত থেকে।
 
ইত্তেফাক/কেকে