হত্যার পর স্ত্রীর লাশ পুড়িয়ে দেয় স্বামী

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রাজধানীর মুগদাপাড়ায় হাসি বেগম (২৭) নামে এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার গায়ে কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী কমল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মুগদা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ কমলকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল বুধবার ভোর থেকে আটটার মধ্যে দক্ষিণ মুগদার ব্যাংক কলোনীর ১/৩৯, নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়।

হাসি বেগমের বড় বোন আলপনা আক্তার বলেন, আট মাস আগে প্রেম করে কমল হোসেনকে বিয়ে করে তার ছোট বোন হাসি। এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। আগের ঘরে শুভ নামে সাত বছর বয়সের একটি ছেলে রয়েছে। ব্যাংক কলোনীর সালামত উল্লাহর ফ্ল্যাটটি তারা ভাড়া নিয়ে থাকেন। তিন রুমের ফ্ল্যাটের একটি রুমে তিনি তার বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে থাকেন। বাকি দুইটি রুমে তার ছোট বোন হাসি বেগম তার দ্বিতীয় স্বামী কমল ও আগের ঘরের সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। বুধবার সকাল ৮টার দিকে কমল আলপনার কক্ষে এসে জানায় যে ঘরে আগুন লেগেছে। তারা ছুটে গিয়ে দেখতে পান যে রুমের মেঝেতে হাসি পড়ে আছে। তার শরীরে কাপড়ে আগুন জ্বলছিল। পরে তারা আগুন নিভিয়ে ফেলে। তাদের সন্দেহ হয় যে, আগুন নেভানোর আগেই হাসি মারা গেছে।

মুগদা থানার পরিদর্শক মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন। পুলিশ জানায়, নিহতের দুপা দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোসকা পড়েছে। তার মাথার চুলের কিছু অংশ পুড়ে গেছে।

হাসির বাবা আলতাফ ঢালী অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করার জন্য শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, রাজধানী সুপার মার্কেটের সামনে একটি মোটরপার্টস বিক্রির দোকান রয়েছে কমল হোসেনের। মঙ্গলবার হাসির প্রথম ঘরের সন্তান শুভকে শরীয়তপুরে তার বাবার বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মুগদা থানার ওসি প্রণয় কুমার জানিয়েছেন, প্রেম করে দ্বিতীয় বিয়ে করার সময় শুভকে তাদের সঙ্গে রাখার কথা ছিল। কিন্তু বিয়ের পর শুভকে নিয়ে প্রায়ই তাদের কলহ হতো। কমলের চাপাচাপিতে হাসি তার ছেলেকে মঙ্গলবার শরীয়তপুরে তার প্রথম স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। গতকাল বুধবার ভোরে এ নিয়েই তাদের মধ্যে কলহ হয়। এরপরই এই হত্যার ঘটনা ঘটে। তবে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহত হাসির বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার রুস্তমনগর গ্রামে।