ঢাকা ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা ওআইসির ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন রবিবার শেষ হয়েছে। সম্মেলনের ঘোষণায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমারের সামরিক অত্যাচার-নির্যাতনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নির্যাতনকারী সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ওআইসি এডহক মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুইদিনব্যাপী সিএফএম-এর দ্বিতীয় দিনে গতকাল রবিবার সকালে রোহিঙ্গা ও মানবিক সংকট ইস্যুতে বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে হয় সমাপনী অধিবেশন।
সম্মেলন শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এক প্রেস ব্রিফিং-এ সাংবাদিকদের বলেন, ওআইসির সাম্প্রতিক ইতিহাসে ঢাকার সিএফএম একটি সার্থক ও সফল বৈঠক। বাংলাদেশের জন্য এটা বড় কূটনৈতিক সাফল্য। প্রতিটি সদস্য দেশ, পর্যবেক্ষক ও সংস্থা এই সম্মেলনে অংশ নেয়। এবারের সম্মেলনে ওআইসির সংস্কার ইস্যু নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। বাংলাদেশ এ বিষয়ে প্রস্তাব দেয়। বাংলাদেশ ও তুরস্ক সংস্কার বিষয়ে একযোগে কাজ করবে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নিধনযজ্ঞ পরিচালনার জন্য দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করতে মন্ত্রী পর্যায়ের এডহক কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছে। যা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, ওআইসিসহ বিশ্ব সম্প্রদায় মনে করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশকে একা রাখা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বের ফলেই এমন ধরনের বিশ্ব জনমত গঠন সম্ভব হয়েছে।
ওআইসি সিএফএম-এর নতুন চেয়ারম্যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী গতকাল দুপুরে সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। ওআইসির মহাসচিব ইউসুফ এ ওতাইমিন এ সময়ে বক্তব্য রাখেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সফল সম্মেলন প্রসঙ্গে বলেন, ওআইসির ৫৩টি সদস্য দেশসহ মোট ১১০টি প্রতিনিধি দলের প্রায় ছয়শ বিদেশি সদস্য এই সম্মেলনে যোগ দেন। এদের মধ্যে ২২ জন মন্ত্রী, ১৩ জন প্রতিমন্ত্রী, ছয়জন পররাষ্ট্র সচিব ও ১৬ জন রাষ্ট্রদূত নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
সম্মেলনে বিশেষভাবে আমন্ত্রিত হয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড যোগ দেন। তিনি রোহিঙ্গা নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে দায়ীদের বিরুদ্ধে জবাবদিহিতার জন্য জোর দেন।
মাহমুদ আলী জানান, দুইদিনব্যাপী সিএফএম সম্মেলনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ১২০টিরও বেশি প্রস্তাবনা গৃহীত হয়। এর মধ্যে ২০টি প্রস্তাবনা রয়েছে রোহিঙ্গা, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ওআইসির সংস্কার, নারীর ক্ষমতায়ন ও যুব সমাজের উন্নয়ন বিষয়ে।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ