সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী মনির হোসেন উদ্ধার, ২ অপহরকারী গ্রেফতার। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার ফকিরাপুল এলাকার থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যবসায়ী মনির হোসেন ব্যাপারীকে রামপুরার মেরাদিয়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মনির হোসেন ব্যাপারী কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার গাংকান্দা এলাকার মৃত নোয়াব আলী ব্যাপারীর ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় শস্য (সরিষা, মরিচ, ডাল, ভুটা ইত্যাদী) কেনাবেচা করেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর বরাত দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মীর শাহীন শাহ্ পারভেজ জানান, গত মঙ্গলবার রাত ৮টায় সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকা থেকে রিক্সায় মৌচাক ছোট ভাইয়ের বাসায় যাচ্ছিল ব্যবসায়ী মনির হোসেন ব্যাপারী। ওইসময় অপহরণকারীরা রাস্তায় রিকশার গতিরোধ করে স্প্রে (অজ্ঞান করার ওষুধ) ব্যবহার করে মনির হোসেনকে অজ্ঞান করে ফেলে। পরে সেখান থেকে ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় নিয়ে অপহরণকারীরা অজ্ঞান অবস্থায় মনির হোসেনকে নগ্ন করে নারীর সঙ্গে ছবি তুলে। মারধর করে পিঠে ও শারীরের বিভিন্ন জায়গায় আগুনের ছ্যাকা দিয়ে জ্বলসে দেওয়া হয়। পরে জ্ঞান ফিরলে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা। অন্যথায় হত্যাসহ নগ্ন অবস্থায় তোলা ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দেন। পরে মনির হোসেন দেড় লাখ টাকা দেওয়ার কথা বললে অপহরণকারীরা তাতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। সেই আশ্বাসে মনির হোসেন ওই রাত ১২টায় নিজ মোবাইল থেকে ছেলেকে ফোন দিয়ে বলে, ‘অহরণকারীদের টাকা না দিলে মেরে ফেলবে। তাই টাকা ব্যবস্থা করে তাদের কথা অনুযায়ী পৌছে দিতে।’ পরে তার ছেলে রাতেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এসে মনির হোসেন অপহরণের অভিযোগ দেয়। এদিকে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে উপ-পরিদর্শক শামীম তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবসায়ী মনির হোসেনের অবস্থান নিশ্চিত করে। পরে ৮ থেকে ১০ সদস্যের পুলিশের একটি আভিযানিক দল খিলগাঁও এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালায়। এসময় অপহরণকারীরা মোবাইলে যোগাযোগ করে দাবিকৃত দেড় লাখ টাকা ফকিরাপুল এলাকার রোমা ফার্মেসিতে জামা দেওয়ার জন্য জানায়। পরে সাদা পোশাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও ব্যবসায়ী মনির হোসেনের ম্যানেজারকে নিয়ে রোমা ফার্মেসিতে গেলে দোকান বন্ধ পাওয়া যায়। পরে অপহরণকারীরা জানায় ফার্মেসির ভবনের তিনতলায় একটি ডাক্তারের চেম্বার আছে সেখানে ইসমাইলের কাছে পৌছে দেওয়ার জন্য। পরে তাদের কথা অনুযায়ী দেড় লাখ টাকা ইসমাইলের কাছে দেয়। অন্য দিকে অপহরণকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রামপুরার মেরাদিয়া এলাকা থেকে ব্যবসায়ী মনির হোসেনকে উদ্ধার করা হয়। পরে ডাক্তারের চেম্বারে টাকা নিতে আসলে সামসুল হক মিলনসহ ইসমাইলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো ময়মনসিংহ ফুলবাড়িয়া তামার বাজার এলাকার ইসমাইল (২৬)। সে ফকিরাপুল এলাকার বাসিন্দা ও রোমা ফার্মিসির বিক্রেতা। আরেকজন পাবনা ফরিদপুর বনাইনগর এলাকার মৃত মঈনুল হকের ছেলে সামসুল হক মিলন (৩৫)। সে খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা। ওসি আরো বলেন, অপহরণের ঘটনায় গ্রেফতার কৃত ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ চক্রের বাকি সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি