সারা বিশ্বেই মানুষের জীবনহানির প্রধান কারণ অসংক্রামক রোগ। ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হূদরোগ, ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্রনিক রোগ, স্ট্রোক এর মধ্যে অন্যতম। এসব রোগের কারণে দেশে শতকরা ৬৭ ভাগ মানুষ অকালে মারা যাচ্ছে। এ অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জীবনাচারণ ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল বুুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ উপলক্ষে ‘জীবনাচার ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং অসংক্রামক রোগের নিয়ন্ত্রক’ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা এ সব তথ্য জানান। দৈনিক ভোরের কাগজের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রাম এ বৈঠকের আয়োজন করে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে অসংক্রামক রোগের কারণে মৃত্যুর হার বাড়ছে। তামাক, অ্যালকোহল, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, বায়ুদূষণ এবং কায়িক শ্রমের অভাবে দিন দিন বাড়ছে অসংক্রামক রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি। অসংক্রামক রোগের বার্ষিক খরচ প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। প্রতিনিয়তই এ ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা সচেতনতার উপর জোর দিয়েছেন।
বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেন, আমাদের একটা ফোরাম তৈরি করতে হবে যেখান থেকে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করতে হলে সব সেক্টরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধ্যাপক এ এইচ এম এনায়েত হোসেন তার মূল প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশ এনসিডি সিচুয়েশন স্টেপস সার্ভে-২০১৮ এর তথ্যমতে, শতকরা ২৮ দশমিক ৪ ভাগ মানুষ কোলেস্টরল, ২৬ দশমিক ২ ভাগ মানুষ উচ্চরক্তচাপ, ১১ ভাগ মানুষ ক্যান্সার, ১০ ভাগ মানুষ ফুসফুসের ক্রনিক রোগ এবং ৮ দশমিক ৪ ভাগ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, অসংক্রামক রোগ সংক্রামক রোগের মতো একজন থেকে অন্যজনে সংক্রামিত হয় না। ফলে সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মানসিক রোগীদের মধ্যে শতকরা ৪২ ভাগের শারীরিক রোগ আছে। তারমধ্যে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, রক্তস্বল্পতা।
ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফয়েজ, এনসিডিসি প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর ডা. নুর মোহাম্মদ, জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান, জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুল হুদা লেলিন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ, আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র সাইন্টিস্ট ডা. শামস এল আরেফিন, ডা. আলিয়া নাহিদ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের এপিডেমিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শামীম রেজা প্রমুখ।