ফরিদপুরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী জাফরউল্লাহর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ মাস্টার। শনিবার বেলা ১১টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার শতাধীক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আজিজ মাস্টার বলেন, প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী জাফরউল্লাহ সাহেব আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী- তিনি নিজে ভোট দিয়ে জামায়াত বিএনপির সমর্থক হাফেজ মো. কাউছারকে চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন।
এরপরে কাউছার প্রেসিডিয়াম মেম্বারের ছত্রছায়ায় থেকে নিজ আত্মীয় স্বজনকে জামায়াত বিএনপির সমর্থকদের দলের কমিটিতে পদ দেন।
তিনি বলেন, কাউছার তার আত্মীয় স্বজন নিয়ে উপজেলায় অবৈধ দখল, অনিয়ম, দুর্নীতি করে যাচ্ছে । প্রেসিডিয়াম মেম্বার এর নিকট তার প্রতিকার চেয়ে কোন সমাধান পাওয়া যায়নি বলে জানান।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনে কাজী জাফরউল্লাহর স্ত্রী নিলুফার কাজী এই আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করে নির্বাচিত হন। নিলুফার কাজী এলাকায় আসতেন না, সব কিছু দেখভাল করতেন কাজী জাফরউল্লাহ। তখন তিনি এলাকায় কোন উন্নয়নই করেননি।
পরে কাউছার ও সাঙ্গপাঙ্গদের এই সব অপকর্মের কারণেই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে নিক্সন চৌধুরীর নিকট বিপুল ভোটে পরাজিত হন। এরপরও তিনি এই সকল দখলবাজ, দুর্নীতিবাজদের প্রশয় দিয়ে আসছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ৪৫ বছর ধরে আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আমি এই উপজেলায় দলের অবস্থান প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে বার বার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সাথে দেখা করার চেষ্টা করেছি কিন্তু প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ সাহেব দেখা করতে দেন নি।
তিনি বলেন, দলের এই অবস্থায় সাধারণ সম্পাদক কাউছারকে নিয়ে সংগঠন করলে ভবিষ্যতে এই উপজেলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বলতে কিছুই থাকবে না। তিনি এই সব বিষয় প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ আবেদন করেন।
তিনি আরও বলেন, চরভদ্রাসন, সদরপুর ও ভাঙ্গা। এই তিন উপজেলা নিয়ে ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন। এই ৩ উপজেলার বেশির ভাগ আওয়ামী লীগ নেতাই এখন কাজী জাফরউল্লাহ সাহেবের সাথে নেই। তিনি এলাকায় আসলে তার সাথে লোকও থাকে না, তাই তিনি এলাকায় একা আসেন না। বর্তমানে তিনি এলাকায় আসেন স্বনামধন্য এক ধন্যাঢ্য ব্যবসায়ীকে নিয়ে। সেই ব্যবসায়ীর সুনামকে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় আসেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাদৎ হোসেন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার মোল্ল্যা, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মুরাদ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের তোফাজ্জেল হোসেন তোতা, এ্যাপোলো নওরোজসহ ৩ উপজেলার শতাধীক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/এমআই