জাবিতে প্রতীকী সিনেট অধিবেশন, ভিসি প্যানেল নির্বাচনের দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষক ও সিনেটরদের একাংশের আয়োজনে ‘প্রতীকী সিনেট অধিবেশন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অধিবেশনটি শুরু হয়ে ১টার দিকে শেষ হয়।
 
অধিবেশনে সিনেট সদস্য অধ্যাপক শাহেদুর রশিদ ভিসির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পন্থি শিক্ষকদের মধ্যে যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে তা ভিসির কারণেই হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার ‘ভাগ কর ও শাসন কর’ নীতি প্রবর্তন করে এ দেশের মানুষকে দুইশ' বছর শাসন করে গেলেও আমরা তাদের তাড়াতে সক্ষম হয়েছি। ফারজানা ইসলাম ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদেরকে দুইভাগে ভাগ করে ভিসি থাকার চেষ্টা করছেন। সিনেট সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ভিসি এ্যাক্ট লঙ্ঘন করে দুটি অনুষদ ও ৯টি হলের প্রাধ্যক্ষদেরকে অপসারণ করেছে। এর প্রতিবাদে গত ১৭ এপ্রিল সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করতে গেলে ভিসির অনুগত কিছু সিনিয়র শিক্ষক আমাদের ৬ শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করছি।’
 
এর আগে অধিবেশনের শুরুতে প্রতীকী ভিসির আসন গ্রহণের পূর্বে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’র সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘সিনেটের তলবি সভা ডাকার জন্য গত ৫ ফেব্রুয়ারি ৪৬ জন সিনেট সদস্য ভিসি বরাবর চিঠি দেন। সিনেট কার্যপরিচালনা বিধি অনুসারে চিঠি পাওয়ার ২১ দিনের মধ্যে সিনেটের তলবি সভা বসার কথা। কিন্তু ৯৫ দিন পেরিয়ে গেলেও ভিসি সভা আহ্বান করেননি। তাই আজ এই ‘প্রতীকী সিনেট অধিবেশন’। এছাড়া অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ে জাকসু নির্বাচন, ভিসি প্যানেল নির্বাচন, র‌্যাগিং ও আবাসন সমস্যা মুক্ত ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
 
অধিবেশনে প্রতীকী ভিসির আসন গ্রহণ করেন অধ্যাপক এস এম বদিয়ার রহমান। এছাড়া প্রতীকী প্রো-ভিসি এম শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মু. নজিবুর রহমান এবং রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করেন মো. শাহিদুর রহমান পরাগ। অধিবেশনে প্রতীকী ভিসি রসালোভাব নিয়ে বক্তব্যের মাধ্যমে হাস্যরস  সৃষ্টি  করেন। পরে সিনেটর ও শিক্ষকরা তাদের বক্তব্যে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করে দুপুর ১টার দিকে প্রতীকী ভিসির অনুমতিক্রমে রেজিস্ট্রার অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
 
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘আমি এ্যাক্ট বিরোধী কোন কাজ করেনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে মাননীয় রাষ্ট্রপতি আমাকে যোগ্য মনে করে আইন অনুযায়ী নিয়োগ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী আমি সকল নিয়ম মেনেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিচালনা করছি। এভাবে তারা প্রতীকী সিনেট অধিবেশন করে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অবমাননা করেছেন।’
 
ইত্তেফাক/এসএস