আবাদি-সদর বৈঠক, সরকার গঠনে বিলম্বের সম্ভাবনা

ইরাকের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী সাইরুন জোটের নেতা আল-সদর সরকার গঠন করা নিয়ে পৃথকভাবে বিরোধীদলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতাদের মধ্যে সদর সবার আগে শনিবার বৈঠক করে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদির সঙ্গে। এর পরদিন, রবিবার হাদি আল-আমিরির সঙ্গে বৈঠক করেন ইরান-পন্থী এই নেতা। সব মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, ইরাকে সরকার গঠন হতে বেশ দেরি হবে। সব পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
 
খবরে বলা হয়, নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর শনিবার রাজধানী বাগদাদে আবাদির সঙ্গে বৈঠক করেন সদর। বৈঠক নিয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আবাদি বলেন, আমাদের বৈঠকে আমরা নিজেদের মধ্যে ও অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে মিলে নতুন ইরাকি সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে সম্মত হয়েছি।
 
তিনি বলেন, এটা হবে মজবুত একটি সরকার। যে সরকার নাগরিকদের সেবা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সরবরাহ দিতে সক্ষম হবে। বৈঠক নিয়ে সদর বলেন, এই বৈঠকটির উদ্দেশ্য ছিল এটা নিশ্চিত করা যে, ইরাকিদের প্রতি তার এমন একটি সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা যে সরকার সবার জন্য কাজ করবে।
 
তিনি বলেন,  আপনাদের সরকার হবে একটি যত্নশীল ও অন্তর্ভুক্ত সরকার। এই সরকার, সংস্কার ও সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সবার কথা চিন্তা করবে। জাতি গড়তে চায় এমন যেকারো জন্য তার দরজা খোলা থাকবে। আমরা কোন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নই। আমরা অন্যদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। কিন্তু এর জন্য প্রক্রিয়াটির জন্য এমন কারো দরকার যিনি সঠিক পথের নির্দেশনা দেন।
 
ফলাফল অনুসারে, পার্লামেন্টের ৩২৮ আসনের মধ্যে ৫৪ আসনে জয়ী হয়েছে সদর- নেতৃত্বাধীন জোট। ৪৭ আসন নিয়ে এরপরেই অবস্থান করছে আল-আমিরির ফাতাহ জোট। আর ৪২ ভোট নিয়ে তৃতীয় অবস্থান অর্জন করেছে আবাদির নাসর জোট।
 
সংবিধান অনুসারে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ১৬৫ আসন। কোন দলই সে কোঠা অর্জন করতে না পারায় এখন জোট সরকার গঠন হতে যাচ্ছে ইরাকে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এজন্য বিভিন্ন দলগুলোর মধ্যে সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে। পূর্বে এরকম আলোচনার কারণে সরকার গঠন নয় মাস বিলম্বিত হয়েছিল।
 
আল সদরের নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। কিন্তু তিনি নিজে সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না সদর। তবে জোটের নেতা হিসেবে সরকার গঠনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।
 
ইত্তেফাক/জেআই