দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকা, স্থানীয় ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনে জড়িত না থাকা, নারী কেলেঙ্কারি, চাঁদাবাজি ও ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী মুশফিককে দলীয় নেতাকর্মীরা বয়কট করেছে। সে কারণে সে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামানত হারায়।
দলীয় নেতা শেখ আবুল কাশেম হত্যা মামলায় জড়িত অরাজনৈতিক এই ব্যক্তিকে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে খুলনা মহানগন জাপার একাংশের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মোল্যা শওকত হোসেন বাবুল এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোল্যা শওকত হোসেন বাবুল বলেন, দলীয় চেয়াম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের লেখা আটটি বই প্রেসিডিয়ামের সদস্য সুনীল শুভ রায় প্রকৃত লেখক বলে মুশফিকুর রহমান যে দাবি করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সদ্য সম্পন্ন হওয়া কেসিসি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর ন্যক্কারজনক পরাজয়ের দায়ভার প্রার্থীকেই বহন করতে হবে। মুশফিক দুষ্টু প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে একাধিক খুনের মামলা রয়েছে, ফাঁসিরও আসামি সে। অসংখ্য নারীর সাথে নানাবিধ সম্পর্ক তার। দলীয় কর্মীদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়কে মেয়র প্রার্থী ২০/২২ লাখ টাকা দেওয়ার দাবিও কল্পকাহিনী বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। নৈতিক অধপতনজনিত কারণে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়নি। মুশফিকুর রহমান রাতারাতি শফিকুর রহমান সেজে নিজের নাম ও জন্মতারিখ ভুল লিখে নির্বাচন কমিশনে কাগজপত্র জমা দিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। যা ক্ষমার অযোগ্য।
সংবাদ সম্মেলনে খুলনা মহানগর জাপার সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দ খায়রুল ইসলাম, শরিফ মো. শাহজাহান, তোবারেক হোসেন তপু, প্রিন্স হোসেন কালু, সেলিম শিকদার, অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান, অ্যাডভোকেট প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস, মো. কালাচান, শহিদুল ইসলাম, জাকিরুল ইসলাম জাকির, শেখ পিয়াস বাবু, মো. কামরুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন লালু, আলাউদ্দিন ফকির, মো. রাসেল হোসেন, শাকিল আহমেদ লাল, শেখ সাহিদ আলম, গোলাম রব্বানি মুন্না, তনয় খান, গাজী মোশারফ হোসেন, মোঃ আলী, মাহবুব আলম, মো. আরিফ হোসেন, শেখ এনাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/নূহু