ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে ৪-৩ গোলে হেরেও অ্যাওয়ে গোল সুবিধায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করে শেষ চারে পৌঁছে গেছে টটেনহ্যাম হটস্পার। ৫৭ বছরের অপেক্ষার শেষে দলকে সেমিফাইনালে তোলার নায়ক সন হিউং মিন এবার বড় কিছুরই স্বপ্ন দেখছেন।
শেষ বাঁশি বাজার মিনিট খানেক আগে সার্জিও আগুয়েরোর বাড়ানো বলটা স্পার্সদের জালে পাঠালেন রাহিম স্টার্লিং। সিটি ডাগআউট তখন বুনো উল্লাসে মত্ত। ঠিক তখনই নাটকের চূড়ান্ত দৃশ্যে বেরসিকের মত ভিএআরের আগমন। দেখা গেলো, কেভিন ডি ব্রুইন বলটা বাড়ানোর আগেই অফসাইডে ছিলেন আগুয়েরো, ফলে বাতিল হয় গোলটি। ইতিহাদে নামলো শ্বশ্মানের নীরবতা? ৪-৩ গোলে জিতেও প্রথম লেগে হারার ফলে টানা দ্বিতীয়বারের মত ইংলিশ প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় ঘণ্টা বাজে গার্দিওলার দলের।
ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলানো এই নাটুকে ম্যাচের শুরুটা হয়েছিলো সেই স্টার্লিংয়ের হাত ধরেই। চতুর্থ মিনিটেই বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে বুলেট গতির শটে লড়াইয়ে সমতায় এনেছিলেন দলকে। এরপর সফরকারী টটেনহ্যাম ৭ ও ১০ মিনিটে সন হিউং মিনের গোলে ভর করে এগিয়ে যায়। বার্নার্দো সিলভা এরপর সিটিকে তো সমতায় ফেরালে ১১ মিনিটেই ম্যাচের চতুর্থ গোলটি দেখে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ইতিহাসের দ্রুততম চার গোলের রেকর্ডও গড়ে এই লড়াইটি। ২১ মিনিটে স্টার্লিং আর ৫৯ মিনিটে আগুয়েরোর গোলে সিটি যখন ম্যাচটা সফরকারীদের ধরাছোঁয়ার বাইরেই নিয়ে যাচ্ছিলো। ৭৩ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ফার্নান্দো লরেন্তের গোলে লড়াইয়ে সমতায় ফিরলেও অ্যাওয়ে গোল সুবিধায় এগিয়েই যায় টটেনহ্যাম।
প্রথমার্ধে জোড়া গোল করে পাগলাটে ম্যাচে দলকে এগিয়েই দিয়েছিলেন সন হিউং মিন, যাতে ভর করেই ১৯৬২ সালের পর প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ চারের টিকিট কাটে পচেত্তিনোর শিষ্যরা। এর আগে প্রথম লেগেও তারই একমাত্র গোলে জয় পেয়েছিলো স্পার্সরা।
দক্ষিণ কোরীয় এই ফরোয়ার্ড ম্যাচটাকে পাগলামি হিসেবেই দেখলেন! তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই এমন কোনো ম্যাচ দেখিনি। এটা বেশ কঠিন একটা ম্যাচ ছিল। অতিমাত্রায় পাগলাটে ম্যাচ ছিল, কিন্তু আমাদের সতীর্থদের নিয়ে আমরা বেশ গর্বিত। এটা নেহায়েত পাগলামি ছিল! আমরা আজ অবিশ্বাস্য চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়ে লড়াই করেছি। নব্বই মিনিট একসাথে লড়াই করেছি।’ সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেই তৃপ্ত নন সন। এবার আরও বড় কিছুর স্বপ্নই দেখছেন তিনি। সনের ভাষায়, ‘এটা অনেক বড় কিছু। আমি নিজেও প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে এসেছিলাম। এবার প্রথমবারের মত সেমিফাইনালে খেলবো। এ অনুভূতিটা অসাধারণ!’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দলের সদস্য হতে পেরে আমি গর্বিত এবং খুবই কৃতজ্ঞ। এটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার তবে আমরা এখানেই শেষ করতে চাই না। আমরা আমাদের লড়াই শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে চাই।’ ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল হজম করেও ভিএআরের কল্যাণে বেঁচে যায় টটেনহ্যাম। এ নিয়ে সন জানান, ‘কখনো কখনো ভিএআরের সিদ্ধান্ত আপনাকে বিরক্ত করবে কিন্তু আজ এটা ছিলো ‘ধন্যবাদ ও ভালো সিদ্ধান্ত’।