রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের দ্রুত পদক্ষেপ চায় যুক্তরাষ্ট্র

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদার সাথে বাংলাদেশ থেকে নিজ দেশে ফেরার জন্য জরুরি ও দৃঢ় পদক্ষেপ চায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ইউএসএইড- এর প্রশাসক মার্ক গ্রীন মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
 
এছাড়া তিনি মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জাতিগত গোষ্ঠী বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকল জাতি-গোষ্ঠির মানুষের মর্যাদা দানের প্রতিশ্রুতি পূরণেরও আহ্বান জানান।সম্প্রতি মিয়ানমারে ইউএসএইড -এর প্রতিনিধিদলের তিন দিনের সফর শেষে এ আহ্বান জানান গ্রীন।
 
ইউএসএইড জানায়, প্রশাসক গ্রীন মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চল পরিদর্শন করেন, যেখানে তিনি রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর চালানো নির্যাতনের ভয়াবহ বাস্তবতা দেখেন।
 
সফরকালে গ্রীন রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে ইউএসএইড সমর্থিত রোহিঙ্গা ও রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি মৌলিক অবকাঠামো অভাবসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন। শিক্ষা ও জীবিকার মৌলিক প্রবেশাধিকার থেকে রোহিঙ্গারা যে বঞ্চিত এবং খাদ্য ও চিকিৎসা সেবার জন্য জরুরি মানবিক ত্রাণের নির্ভরশীলতা দেখে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হন ইউএসএইড প্রশাসক। তিনি পর্যবেক্ষণ করেন, রোহিঙ্গা সম্প্রদায় তাদের চলাফেরার স্বাধীনতার উপর কঠোর সীমাবদ্ধতায় রয়েছেন যা গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মূলনীতির বিপরীত।
 
মিয়ানমার সফরকালে গ্রীন একাধিক বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাৎ করেন, যারা রাখাইন রাজ্যে সকল সম্প্রদায়কে সহায়তা প্রদান করছে এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা স্থাপন করতে কাজ করছে। গ্রীন তাদের বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য প্রশংসা করেন। এছাড়া তিনি ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়গুলোর মর্যাদা রক্ষা করে এমন টেকসই, শান্তিপূর্ণ সমাধান জন্য মার্কিন প্রতিশ্রুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
 
প্রশাসক গ্রীনের সফরকালে রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলা এবং দুঃখকষ্টের অবসান ঘটিয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সেই সাথে সকল সম্প্রদায়ের জীবনধারণের উন্নতির জন্য বিশ্বাসযোগ্য তথ্য সরবরাহে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
 
মিয়ানমারে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্কট মার্সিয়েল এবং ইউএসএইচ মিশনের পরিচালক তেরেসা ম্যাকঘি ইউএসএইড প্রতিনিধিদলের সাথে ছিলেন। এশিয়া গ্লোবাল স্টিলের ইউএসএইড এর সিনিয়র ডেপুটি সহকারী প্রশাসক এবং জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক উপ-সহকারী পররাষ্ট্র সচিব মার্ক স্টরেলাও যোগ দেন।
 
ইত্তেফাক/এমআই