নামায মেরাজের উপহার ও ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ। প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক নারী-পুরুষের উপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা ফরজ এবং এর অস্বীকারকারী কাফের। মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে অন্তত ৮২ বার নামাযের আলোচনা করেছেন। কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাযের হিসাব হবে।
নামাযের গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, তোমরা নামায কায়েম কর এবং যাকাত দাও। আর তোমরা নিজেদের জন্য অগ্রে যে সত্কর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। (সুরা বাকারা, আয়াত ১১০)
মহান রাব্বুল আলামিন আরো ইরশাদ করেন, আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ করুন এবং নামায কায়েম করুন। নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যা কর সে বিষয়ে আল্লাহ অবগত। (সুরা আনকাবুত, আয়াত ৪৫)। হযরত আলী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর শেষ অসিয়ত ছিল ‘নামায’ ‘নামায’ অর্থাত্ নামাযের প্রতি যত্নবান হও। আর স্বীয় অধীনস্থদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। (আবু দাউদ)
যারা নামায তরক করে বা নামাযের প্রতি উদাসিনতা প্রদর্শন করে তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ, লাঞ্ছনাকর ও যন্ত্রণাদায়ক আজাব। মহান আল্লাহ তায়ালা এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, (সেদিন) পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে অপরাধীদের সম্পর্কে যে, কিসে তোমাদেরকে জাহান্নামে ঠেলে দিয়েছে? তারা বলবে, আমরা নামাযীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত ৪২-৪৩) মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনের অন্যত্র ইরশাদ করেন, দুর্ভোগ সেসব নামাযীর জন্য, যারা তাদের নামায সম্বন্ধে উদাসিন। (সুরা মাউন, আয়াত ৪-৫)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি গুরুত্বের সাথে নামায আদায় করে, কিয়ামতের দিন নামায তার জন্য নূর হবে, হিসাবের সময় তার দলিল হবে এবং নাজাতের উপায় হবে। আর যে ব্যক্তি গুরুত্বের সাথে নামায আদায় করে না, কিয়ামতের দিন নামায তার জন্য নূর হবে না, তার নিকট কোনো দলিল থাকবে না এবং নাজাতের জন্য কোনো উপায়ও হবে না। এমন ব্যক্তির হাশর হবে ফেরাউন, হামান ও উবাই ইবনে খালফের সাথে। (মুসনাদে আহমদ)
লেখক : মুফাসসিরে কুরআন, মাদ্রাসা শিক্ষক ও খতিব