দক্ষতার উন্নয়ন লক্ষ্যে ‘স্কিলস টুয়েন্টি-ওয়ান’ পদক্ষেপ একটি সমন্বিত ও সুষম কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা' গড়ে তুলবে যা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।
সোমবার রাজধানীর হোটেল রেডিসনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার তত্ত্বাবধানে ‘স্কিলস টুয়েন্টি-ওয়ান’ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে নাগরিকদের ক্ষমতায়ন- প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘একটি কার্যকর কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থাই বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্কিলস টুয়েন্টি-ওয়ান আমাদের কর্মশক্তিকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়তা করবে।’
‘স্কিলস টুয়েন্টি-ওয়ান’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আইএলও-ইইউ এর বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে অতীত সফল উদ্যোগগুলোর ওপর ভিত্তি করে। প্রকল্পটির অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে রয়েছে দক্ষতার উন্নয়ন ব্যবস্থার পুনর্গঠনকে আরও শক্তিশালী করে একটি সফল যোগ্যতার কাঠামো তৈরি করা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশনের ভারপ্রাপ্ত হেড অব কো-অপারেশন ডোরেথে বোসে বলেন, বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন। আর তাই দেশটিতে বিদ্যমান দক্ষতার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালি করতে হবে। এজন্যে ‘স্কিলস টুয়েন্টি-ওয়ান’ কর্মযজ্ঞকে ইইউ সহায়তা করবে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর এক্ষেত্রে নানা সমস্যা এবং প্রতিবন্ধকতার চিত্র তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে চাকরি বাজারে বিদ্যমান অসামঞ্জস্যতা, অবাধগম্যতা এবং নারী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠিকে সম্পৃক্ত করা।
‘স্কিলস টুয়েন্টি-ওয়ান’ এর আওতায় বাগেরহাট, খুলনা, কাপ্তাই, ফেনী, জামালপুর, সিলেট, গাইবান্ধাতে গড়ে তোলা হবে ৭টি মডেল কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। যেখানে দক্ষতা ব্যবস্থার পুনর্গঠনের সবগুলি উপাদানই বিদ্যমান থাকবে। দক্ষতা ব্যবস্থার গুণগত মান নিশ্চিত, দক্ষ প্রশিক্ষক-ব্যবস্থাপক এমনকি শিক্ষার্থীদের চাকরির জন্য তাদেরকে সঠিক নির্দেশনা তৈরির মতো বিষয়গুলো এসব মডেল ইনস্টিটিউটে নিশ্চিত করা হবে।
‘স্কিলস টুয়েন্টি-ওয়ান’ প্রকল্পটির চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার স্নেহাল সোনেজি বলেন, একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতার ব্যবস্থা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের শক্ত ভিত্তি।
উল্লেখ্য, মোট ২০ মিলিয়ন ইউরো বাজেটের এ প্রকল্পটিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৯.৫ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের শিক্ষা, শ্রম, যুব উন্নয়ন, প্রবাসীকল্যাণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়, কারিগরি শিক্ষাবিভাগ ও অধিদপ্তর কাজ করবে।
ইত্তেফাক/এমআই