বগুড়ায় বিএনপি নেতা ও পরিবহন ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে এজাহারভুক্ত একজনসহ দুই আসামি গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা শাহীন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে কমপক্ষে ১০ জন অংশ নিয়েছে। বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
বগুড়া পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, খুন করে পালিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহূত একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে। বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে শাহীনকে খুন করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো- পায়েল শেখ (৩৮) ও রাসেল (২৮)। পায়েলের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। শাহীন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি পায়েল শেখ।
পুলিশ সুপার বলেন, শাহীন মোটর মালিক গ্রুপের বিবাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর শহরের চারমাথায় মোটর মালিক গ্রুপের দায়িত্বশীল এক নেতার অফিসে গোপন বৈঠক হয়। সেখানে শাহীনকে হত্যার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে মোটর মালিক গ্রুপের সেই নেতার সাথে তার সার্বক্ষণিক এক সহযোগী এবং চারমাথা এলাকার এক ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ীসহ আরো কয়েকজন উপস্থিত ছিল। এছাড়া অফিস রুমের বাইরে আরো কয়েকজন অপেক্ষায় ছিল। তবে পুলিশ সুপার হত্যার পরিকল্পনাকারী মোটর মালিক গ্রুপের সেই নেতার নাম বলতে রাজি হননি। পুলিশ সুপার জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ঘটনার দিন ১৪ এপ্রিল রাতে মোটর মালিক গ্রুপের দায়িত্বশীল এক নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং আরো একজন তাদের নিজস্ব লোকজনদের খবর দেয় এবং চারটি মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থল উপশহর বাজারে এসে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। এরপর আগে থেকে উপশহর বাজারে অবস্থান করা এক ব্যক্তি শহরের চারমাথার সেই ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ীকে মোবাইল ফোনে খবর দিলে পায়েল শেখ, রাসেল এবং আরো ৮/৯ জন ঘটনাস্থলের কাছে চলে আসে। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহীনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পুলিশ সুপার জানান, অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে রিমান্ডে নেওয়া হবে।
গত ১৪ এপ্রিল রবিবার রাতে বগুড়া শহরের উপশহর বাজারে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন।