ইরানের কুখ্যাত এভিন কারাগার ও আধা-সামরিক বাহিনী আনসার-ই হেজবুল্লাহর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান সরকার বিরোধী ও সমালোচকদের দমাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করে গুরুত্বর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন টি মুচিনকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, সম্প্রতি ইরানে প্রাণঘাতী বিক্ষোভ হয়েছে। এসব বিক্ষোভে অংশ নেয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানোর সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠান দু’টি সহ আরো ছয় ব্যক্তি ও একটি যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সংস্থা জড়িত। স্থানীয় সময় বুধবার এই বিবৃতি দেন মুচিন।
ইরান অবশ্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, অভিযোগগুলো মিথ্যা ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরাংশে অবস্থিত এভিন কারাগার। রাজনৈতিক বন্দি, ভিন্নমতালম্বী ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে অভিযুক্ত ইরানীদের বন্দি করে রাখার জন্য কারাগারটি কুখ্যাত।
ফেব্রুয়ারিতে দেশটির এক শীর্ষ পরিবেশবাদী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এভিন কারাগারে বন্দি থাকাকালীন অবস্থায় রহস্যজনকভাবে মারা যান। এমনকি কারাগারটির প্রহরীদের বিরুদ্ধেও বন্দীদের ওপর নির্যাতন চালানোর ও হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে।
২০০৩ সালে জাহরা কাজেমি নামের এক কানাডিয়ান-ইরানি সাংবাদিককে কারাগারটির ছবি তোলার জন্য গ্রেফতার করা হয়। সেখানে তার ওপর চালানো নির্যাতনের ফলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন কাজেমি।
মুচিন বলেন, কারাগারটিতে ইরানী রেভ্যুলিউশনারী গার্ড ও গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী ওয়ার্ড রয়েছে। সেখানে তারা রাজনৈতিক বন্দীদের আটকে রাখে। যারা সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তাদেরকে ইরানের কারাগারে নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়।
এদিকে, আনসার-ই হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ রয়েছে যে, দলটি সহিংস উপায়ে ইরানী নাগরিকদের দমিয়ে রাখে। এছাড়া রেভ্যুলিউশনারী গার্ডের বিশেষ শাখা বাসিজি’র সঙ্গে মিলে যৌথভাবে কাজ করে।
ইত্তেফাক/ জেআর