‘মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার পক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন, কারাগারে সাক্ষাত্ করা এবং হত্যাকাণ্ডের দু’দিন আগে, অর্থাত্ ৪ এপ্রিল সকালে এবং রাতে পৃথক পৃথক সভা করা হয়। ১২ জনের উপস্থিতিতে নুসরাত হত্যার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়। হত্যাকাণ্ডে কে কোথায় থাকবে, কে কি কাজ করবে তাও নির্ধারিত হয়।’ পুরো কার্যক্রমটির সমন্বয় করেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক আব্দুল কাদের। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেই স্বীকারোক্তিতেই উঠে এসেছে আব্দুল কাদেরের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনের কথা।
আগে আদালতে তিনজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতেও উঠে আসে কাদেরের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনের কথা। গতকাল বেলা দেড়টার দিকে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহমদের আদালতে আব্দুল কাদেরকে হাজির করা হয়। এরপর তিনি জবানবন্দি দেন। গত বুধবার রাতে তাকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থেকে গ্রেফতার করে। তিনি স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
শামীম পাঁচ দিনের রিমান্ডে : নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় তার সহপাঠী সন্দেহভাজন মো. শামীমকে (১৯) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাফ উদ্দিন আহমদের আদালত এ আদেশ দেন। ফেনী পিবিআই-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান জানান, ‘শামীমের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’ সোমবার সন্ধ্যায় তাকে সোনাগাজীর চরচান্দিয়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত নূরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম ও আবদুর রহিম শরীফ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নুসরাত হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত সাতজন, অন্যরা সন্দেহভাজন।
শিক্ষক সেলিম গ্রেফতার : গোয়েন্দারা নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আসামি সেলিম নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত সেলিম সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক বলে জানিয়েছে পিবিআই।