শুল্ক আরোপ করায় জি-সেভেনে একঘরে হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র

 
ইউরোপ, কানাডা, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় জি-সেভেন সম্মেলনের আগে একঘরে হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কানাডায় জি-সেভনভুক্ত দেশের অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আসন্ন জি-সেভেন সম্মেলন হবে ‘জি-সিক্স প্লাস ওয়ান’ সম্মেলন। যুক্তরাষ্ট্র যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে মুক্ত বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে আস্থার সংকট দেখা দেবে। আগামী ৮-৯ জুন কানাডার কুইবেক প্রদেশের চার্লেভয়েক্সে জি-সেভেন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া জি-সেভনভুক্ত অন্য দেশগুলো হলো কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান ও ইতালি।
 
শনিবার কানডায় জি-সেভেন দেশের অর্থমন্ত্রীদের তিনদিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপনীতে কানাডার অর্থমন্ত্রী বিল মরনিও বলেন, ছয় সদস্য দেশ আশা করে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের হতাশার বার্তা শুনবেন। মন্ত্রীরা অতিরিক্ত শুল্ক পরিহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত জি-সেভেনে বড় বিভক্তির সৃষ্টি করেছে। ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী ব্রুনো লা মাইরে বলেন, এবারের বৈঠক খুবই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী মুনুচিন বলেছেন, জি-সেভেন গুরুত্বপূর্ণ জোট, এখানে বিভক্তির সুযোগ নেই। সম্মেলনে বিশ্ব নেতারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা করবেন। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে এখন থেকে ইস্পাতের ওপর ২৫ শতাংশ ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। খবর:আল-জাজিরা ও সিএনএন।
 
যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি চীনের   
 
নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হলে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে চীন। তারা বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন থেকে পণ্য আমদানির ওপর আরো ৫০ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছেন। নতুন করে কোনো শুল্ক আরোপ হলে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় যে অগ্রগতি হয়েছে তা ভেস্তে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গত দুই দিন ধরে বেইজিংয়ে চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। 
 
চীনা বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, আলোচনা ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হলে আমেরিকান পণ্য কেনার ব্যাপারে কোনো প্রতিশ্রুতি দেবে না বেইজিং। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য যুদ্ধে যাচ্ছে না চীন। চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী লিউ হে বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি বাড়াতে প্রস্তুত রয়েছে চীন।  
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ