‘ট্রাম্পের জায়গায় কোন ডেমোক্রেট থাকলে অভিশংসন শুরু হয়ে যেত ’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জায়গায় কোন ডেমোক্রেট যদি  প্রেসিডেন্ট থাকতেন তাহলে এতদিনে তাকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যেত। রবিবার রাতে এমন মন্তব্যই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। ক্লিনটন বলেন, ওভাল অফিসে কোন ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট থাকলে ও ২০১৬ মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্ত বর্তমানের মতন গভীর পর্যায়ে থাকলে তাকে উৎখাতের জন্য পুরোদমে প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যেত। এ খবর দিয়েছে ফক্স নিউজ।

 
খবরে বলা হয়, রবিবার রাতে মার্কিন টিভি চ্যানেল সিবিএস এর ‘সানডে মর্নিং’ অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিল ক্লিনটন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, আমার মনে হয় ভূমিকার জায়গাটা পাল্টে গেছে- এখন, এটা হচ্ছে সাধারণভাবে আমি কথা বলে যাচ্ছি। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে- এটা যদি কোন ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট হতেন আর এই তথ্যগুলো প্রকাশিত থাকতো, তাহলে ওয়াশিংটনে আমার পরিচিত বেশিরভাগ মানুষেরই বিশ্বাস এতদিনে শুনানি শুরু হয়ে যেত।
 
ক্লিনটন সম্প্রতি জেমস প্যাটারসনের সঙ্গে  মিলে যৌথভাবে ‘দ্য প্রেসিডেন্ট ইজ মিসিং’ নামে একটি রাজনৈতিক থ্রিলার বই লিখেছেন। রবিবার বইটির প্রচারণার অংশ হিসেবে প্যাটারসনের সঙ্গে সিবিএস’র সানডে মর্নিং অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বেশকিছু গুরুত্বর ইস্যুগুলোর সম্মুখীন। যার মধ্যে ওই অভিশংসন সম্পর্কিত ইস্যুটিও রয়েছে।
 
IMG0
 
এখন পর্যন্ত, মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ বিষয়ক তদন্তে স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলার, ১৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর মধ্যে তিন জন ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের হয়ে কাজ করেছে। আরো রয়েছে ট্রাম্পের শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনটি প্রতিষ্ঠান।
 
অভিযুক্তদের মধ্যে পাঁচ জন অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তবে সম্ভবত এর মধ্যে সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি হচ্ছেন, ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মাইক্যাল ফ্লিন।
 
অভিশংসনের বিষয়ে ক্লিনটনের তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। ১৯৯৮ সালে হোয়াইট হাউসের ইন্টার্ন মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের জের ধরে বিচার বাধাগ্রস্ত করা ও শপথ ভঙ্গের অভিযোগে তাকে অভিশংসনের প্রস্তাব তোলে তৎকালীন রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত নিম্নকক্ষ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করেছিলেন কেন স্টার। তবে তার অভিশংসনের প্রস্তাব সিনেটে যাওয়ার আগেই তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তুলে নেয়া হয়। উল্লেখ্য, ক্লিনটনের স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ২০১৬ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।   
 
সিবিএস’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট  ট্রাম্পের শব্দাড়ম্বরপূর্ণ কৌশল ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিকৃত নামের সমালোচনাও করেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প, ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর মারকো রুবিওকে ‘লিটল মার্কো’(ছোট মার্কো) এবং টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজকে ‘লাইং টেড’ বলে বর্ণনা করেন। এছাড়া, তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনকে ‘লিটল রকেট ম্যান’, হিলারি ক্লিনটনকে ‘ক্রুক্ড হিলারি’ বলে বিদ্রূপ করেন।
 
ক্লিনটন বলেন, এসব আমার একেবারেই পছন্দ নয়। ছোটবেলায় আমি সবসময় কাউকে এরকমভাবে ডাকলে মা হয়তো আমায় দিনে  পাঁচবার বেত্রাঘাত করতেন।
 
ইত্তেফাক/ জেআর