মুন্সীগঞ্জের ৬টি উপজেলায় এবারো আলুর খুব ভালো ফলন হয়েছে। তবে উত্পাদন খরচের তুলনায় আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষককুল এবারো লোকসানের কবলে পড়েছেন। সেই সঙ্গে উত্পাদিত বিপুল পরিমাণ আলু নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। না পারছেন সস্তায় বিক্রি করতে, না পারছেন ভালোভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে। আলু উত্তোলন মৌসুমের শুরুতেই পাইকারের অভাবে ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন কৃষক। উত্পাদিত আলুর অধিকাংশই কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করতে পারেননি তারা। অবশিষ্ট আলু নিজ বাড়ির আঙিনায় মাচা করে সংরক্ষণ করছেন কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রমতে, চলতি মৌসুমে মুন্সীগঞ্জ জেলায় ৩৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়। গেল বছর জেলায় আলু আবাদ হয়েছিল ৩৮ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। উত্পাদন হয় ১৩ লাখ ৬৯ হাজার মেট্রিক টন আলু। তবে এ বছর ৫০০ হেক্টর কম জমিতে আলু আবাদ করা হয়। তারপরও এ বছর সর্বমোট ১৩ লাখ ৭৮ হাজার মেট্রিক টন আলু উত্পাদিত হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জে ৬৮টি কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে। এসব কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন আলু। ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি আলু কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণে খরচ পড়েছে ১৬০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। এছাড়া উত্পাদিত প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন আলু কৃষকরা স্থানীয়ভাবে মাচায় করে সংরক্ষণ করেছেন। উত্পাদিত বাকি আলুর অধিকাংশ বাজারজাত করা হলেও অনেক আলু সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
সদর উপজেলার চরাঞ্চল মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চরডুমুরিয়া গ্রামের আলু চাষি সোহেল মাদবর জানান, এ বছর প্রতি কেজি আলু উত্পাদনে তার খরচ হয়েছে ১১ টাকার বেশি। অথচ বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৯ টাকা দরে। সেই হিসাবে প্রতি কেজি আলুতে কৃষককে ২ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আলু চাষি চিনিমুদ্দিন জানান, ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি আলুর উত্পাদন খরচ পড়েছে সাড়ে ৫০০ টাকার বেশি। কিন্তু বাজারে পাইকারিতে আলু বস্তাপ্রতি বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র সাড়ে ৪০০ টাকা দরে। জানা যায়, অনেক চাষি ধারদেনা করে এ বছর আলু চাষ করেন। আলু বীজ থেকে শুরু করে কীটনাশক পর্যন্ত বাকিতে এনে জমিতে আলু চাষ করেছেন কৃষক। এখন উত্পাদিত আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়ায় আলু বীজ ও কীটনাশকের বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা।