ঈদ যদি ১৬ জুন হয়, তবে মাঝে বাকি ৯ দিন। তবে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের মূল স্রোত শুরু হবে ১৪ জুন থেকে। এরমধ্যে মহাসড়ক সম্পূর্ণ চলাচলের জন্য প্রস্তুত হবে এমনটা আশাও করা যাচ্ছে না। কিন্তু মহাসড়ক তো পরের কথা, রাজধানীর প্রবেশ ও বের হবার ৪ পয়েন্ট যাত্রাবাড়ী, গাবতলী, আব্দুল্লাপুর ও বাবুবাজার ব্রিজে চরম ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। এখানেই শেষ নয়, নগরীর ৪টি বাস টার্মিনাল থেকে বের হতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় চলে যায়। এ ব্যাপারে সড়ক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ হোসেন আহমেদ মজুমদার বলেন, ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে বের ও প্রবেশ হওয়ার চারটি স্থানই আগ থেকেই নানা সমস্যায় জর্জরিত। এরপর নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ঈদযাত্রার চাপ। এ অবস্থায় গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান টার্মিনাল থেকে বাস বের হয়ে মহাসড়কে উঠতে এবং ঢাকায় প্রবেশের সময় দীর্ঘ যানজটে পড়তে হতে পারে। আর এর ফলে ঈদযাত্রার বিশাল একটা সময় চলে যেতে পারে ঢাকার ভেতরেই। তবে মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, নগরীর চারটি প্রবেশ ও বের হবার রাস্তা যানজট মুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে।
ঈদে ট্রেনের আগাম টিকেট নেওয়ার শেষ দিন গতকাল কমলাপুর স্টেশনে ছিল যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। কাঙ্ক্ষিত টিকেট পেয়ে খুশি যাত্রীর পাশাপাশি দীর্ঘ অপেক্ষার পরও টিকেট না পাওয়া যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ২৫ থেকে ৩০ ঘণ্টাও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা। সারা রাত লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট পাওয়ায় খুশি হয়েছেন ভাগ্যবানরা। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী জানান, গত বছর যা দিয়েছি তার থেকে বেশি টিকেট এবার দিচ্ছি, স্পেশাল ট্রেনও বাড়িয়েছি। আগামী ১০ জুন থেকে পাঁচ দিন ঢাকা ফেরার আগাম টিকেট বিক্রি শুরু করবে রেলওয়ে।
রাজধানীর ভোগান্তির চার পয়েন্ট
রাজধানীর চারটি পয়েন্ট যাত্রাবাড়ী, গাবতলী, আব্দুল্লাপুর ও বাবুবাজার ব্রিজ। এসব পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন ঢাকা ত্যাগ করে। স্থানগুলো সংকুচিত হওয়ায় যানবাহনের চাপ সামলাতে খুব হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে দূরপাল্লার বাসগুলোর ঢাকায় প্রবেশে অনেক সময় লাগে।
এ ব্যাপারে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতি ঈদে ঢাকার প্রবেশ পথগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এই কারণে দূরপাল্লার বাস ঢাকা ছাড়তেই ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। যাত্রাবাড়ীতে প্রবেশ কাঁচপুর মহাসড়ক আট লেনে উন্নীত করা হলেও সুফল মেলেনি। তিনি বলেন, প্রতিবছরের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে পারি এবছরও যানজট থেকে ঈদে ঘরমুখো মানুষ মুক্তি পাচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানের সড়ক-মহাসড়কের পাশাপাশি ঢাকা থেকে প্রবেশের চারটি পয়েন্টের মধ্যে তিনটিরই অবস্থা খারাপ। এই সমস্যাগুলো অনেক আগ থেকে চিহ্নিত। সরকারকে অনেক আগ থেকেই তা সমাধান করা উচিত ছিল।
রাজধানীর ছাড়ার চার পয়েন্টে ভোগান্তির শঙ্কা নিয়ে মতামত জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঈদের সময় যখন ভিড় হবে ঠিক সেই সময় আমাদের স্পেশাল ডেপ্লয়মেন্ট থাকবে। সবার সঙ্গে সমন্বয় করে ও যোগাযোগ রেখে কাজ করছি। আশা করি ঈদের সময় সুন্দরভাবে মানুষ তাদের গন্তব্যে যেতে পারবে।