নাগরিকত্ব হারিয়েও নির্বাচনে লড়বেন পারভেজ মুশাররফ!

নাগরিকত্ব হারালেন পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফ। অবিলম্বে মুশাররফের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইসি) বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নাসির উল মুলক। শনিবারই তার পরিচয়পত্র বাতিল করেছে পাকিস্তানের ন্যাশনাল ডাটাবেস অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অথরিটি।
 
মুশাররফের পরিচয়পত্র বাতিল করার আগেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন তিনি। ফলে সরকার বা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের মধ্যে কোনও একটি খারিজ না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানে সাংবিধানিক সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।
 
শনিবার মুশাররফের পরিচয়পত্র বাতিল করা হয়েছে। এখন আর পাকিস্তানী নাগরিক নন তিনি। অর্থাৎ তার পাকিস্তানি পাসপোর্টও আর কার্যকর নয়।
 
এই মুহূর্তে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন মুশাররফ। এনআইসি, পাসপোর্ট বাতিল হওয়ায় এখন আইন মেনেই তাকে দেশে ফেরানো সম্ভব বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।
কিন্তু  ভোটের আগে মুশাররফ নিজেই পাকিস্তানে ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছে তার দল এপিএমএল। সম্প্রতি এক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট তাকে সাধারণ নির্বাচনে লড়ার অনুমতি দিয়েছে।
 
পাকিস্তানের প্রাক্তন এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। ১৩ জুন তাকে আদালতে হাজিরা দিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট । ওই সময়ে তাকে গ্রেফতার করা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
 
এপিএমএল জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের চিত্রল আসন থেকে ভোটে লড়তে পারেন মুশাররফ। করাচি থেকেও লড়তে পারেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
 
এদিকে, ডনের এক খবরে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই করাচি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য মনোনয়নপত্র পেয়েছেন মুশাররফ। মুশাররফকে ভোটে লড়ার সুযোগ দেওয়ায় নওয়াজ শরিফ-সহ পাক রাজনৈতিকদের সমালোচনার মুখে পড়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
 
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখল করেছিলেন মুশাররফ। ২০০৮ সালে তিনি ইস্তফা দিতে বাধ্য হন। তার পরে একের পর এক ফৌজদারি মামলার মুখে পড়েছেন তিনি। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তখন থেকে তিনি সেখানেই রয়েছেন। আনন্দবাজার ও ইকোনমিক টাইমস।
 
ইত্তেফাক/ জেআর